


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন। ব্ল্যাকমেলের চেষ্টা করবেন না। চাপ দিয়ে অথবা ভয় দেখিয়ে কোনও লাভ হবে না। আমরা সংঘাত চাই না। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, চুপ করে থাকব। তার থেকে পরিণতমনস্ক আচরণ করুন। আলোচনায় বসুন। পণ্য ধরে ধরে শুল্ক নিয়ে কথা বলুন। এটাই আন্তর্জাতিক রীতি। তার পরিবর্তে ভয় দেখাতে থাকলে বল আপনার কোর্টে। সিদ্ধান্ত আপনাদের হাতে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২৪৫ শতাংশ শুল্কের ধাক্কা খেয়ে এমনই কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল চীন। পণ্যশুল্কের বিশ্বযুদ্ধে নবতম সংযোজন হল, বুধবার বিস্ময়কর হারে আমেরিকার শুল্ক আরোপ। তারই জেরে চীন কঠোর ভাষায় ট্রাম্পকে এই সতর্কবার্তা।
ট্রাম্প জানেন যে বিশ্বে একটিমাত্র দেশ আছে যার উপর বহু ক্ষেত্রে আমেরিকা নির্ভরশীল। পণ্য আমদানি তো বটেই, আর্থিক ঋণের ক্ষেত্রেও। বাণিজ্য ঘাটতিও বিপুল। এসব যে রাতারাতি অতি শুল্ক বলবৎ করে অথবা বাগযুদ্ধে মিটে যাবে এমনও নয়। কিন্তু তবু তিনি বিশ্বজুড়ে আমেরিকার শক্তির প্রমাণ দিতে বুধবার চীনের উপর ২৪৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করলেন। আমেরিকার চাপানো শুল্কের পাল্টা গত শুক্রবার চীন ১২৫ শতাংশ শুল্ক বলবৎ করেছিল। এবার আমেরিকাকে যে হারে শুল্ক চাপিয়েছে তাকে সম্পূর্ণ অবাস্তব এবং অবিশ্বাস্য হিসেবে ব্যাখ্যা করছে বিশ্বের কূটনৈতিক মহলও। আমেরিকার ক্রোধের অন্যতম কারণ হল, বাণিজ্য যুদ্ধের আড়ালে নিঃশব্দে চীন সম্প্রতি একের পর এক ধাতু, খনিজ এবং বিরল ধাতব কাঁচামাল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। গ্যালিয়াম, জার্মেনিয়াম, অ্যান্টিমনির মতো এই প্রতিটি খনিজ ও ধাতুর প্রয়োজন হয় সামরিক সরঞ্জাম, এরোস্পেস পরিকাঠামো এবং সেমিকন্ডাকটর নির্মাণে। আমেরিকার শিল্পবাণিজ্যের প্রাণভোমরা ওই সেক্টরগুলি। আমেরিকা সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের উপর পাল্টা আমদানি শুল্ক ধার্য করলেও পরে ওই সিদ্ধান্ত ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রেখেছে। কিন্তু চীন ব্যতিক্রম। পাল্টা চীন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আইফোন থেকে খেলনা, ইলেকট্রনিক্স পণ্য অথবা ওষুধের স্ট্রিপ তৈরির কাঁচামালের আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে আমেরিকাবাসী বুঝবে যে, কত গুণ বেশি দামে তাদের ওইসব পণ্য কিনতে হবে। চীনের উপর বুধবার আমেরিকার এই মাত্রাছাড়া শুল্ক বলবৎ হওয়ার পর চীন বলেছে, এখনও সময় আছে। আমরা আলোচনা চাই। আমেরিকা যেন মনে রাখে যে শুল্কযুদ্ধে কেউ জেতে না। ক্ষতি হবে বিশ্বজুড়ে।
আমেরিকার এই মহাশুল্কের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই আবহে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণের আমেরিকা সফরের দিকেও তাকিয়ে রয়েছে ভারতবাসী। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডার, বিশ্বব্যাঙ্ক ইত্যাদি মঞ্চে সম্মেলনে যোগ দেবেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু পাশাপাশি মার্কিন সরকারের ট্রেজারি সচিব এবং বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক। ভারতকে ডোনাল্ড ট্রাম্প আক্রমণাত্মক সুরে অভিযুক্ত করেছেন অতিশুল্কের দায় চাপিয়ে। এখনও পর্যন্ত ভারত কোনও পালটা কঠোর প্রতিক্রিয়া দেয়নি।