


সংবাদদাতা, বর্ধমান: জুলাইয়ের প্রথম থেকেই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শুরু হয়েছে রক্ত সঙ্কট। সব গ্রুপের রক্তই হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে অমিল। ফলে সমস্যায় পড়ছে রোগীরা। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিষেবা বজায় রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। এই সঙ্কট দূর করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। হাসপাতালে সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান হাসপাতালে দৈনিক গড়ে ১২০ ইউনিট রক্তের চাহিদা থাকে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর জন্য দৈনিক গড়ে ৬০-৭০ ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীর জন্য গড়ে ৩৫ ইউনিট ও হাসপাতালের বাইরে থেকে দৈনিক গড়ে ২০ ইউনিট রক্তের চাহিদা থাকে। বর্ধমান হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে ৪৫ ইউনিট রক্ত জরুরি প্রয়োজনে মজুত রাখা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত জুলাই মাসের শুরু থেকে চাহিদা বাড়লেও রক্তের জোগান কমে গিয়েছে। সাধারণত প্রতি বছর গ্রীষ্মের সময় রক্তের জোগানে টান পড়ে। এবছর রক্তের জোগান একবারেই কমে গিয়েছে। হাসপাতালে ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের মজুত কার্যত শূন্যে পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে।
এবছর গ্রীষ্মের সময় রক্তদান শিবির কম হওয়ার জন্যই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত জুলাই মাসে বর্ধমান হাসপাতালের সহযোগিতায় ১৩টি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল।
ওই শিবির গুলি থেকে মোট ৪০০ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ হয়েছে। একটি রক্তদান শিবির থেকে গড়ে ১০০ ইউনিট রক্ত পাওয়া যায়। এখন রক্তদানে অনীহা দেখা গিয়েছে। ফলে, বড় শিবির করেও রক্তদাতা মিলছে না বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
অবশ্য হাসপাতালের সুপার তাপস ঘোষ বলেন, সব গ্রুপের রক্ত সঙ্কট নেই। কিছু কিছু গ্রুপের রক্তের সঙ্কট রয়েছে। তাতে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে সমস্যা হবে না। আশা করছি কিছুদিনের মধ্যেই রক্ত সঙ্কট কেটে যাবে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তারা রক্ত সঙ্কট দূর করতে সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত, কয়েক মাসে যতগুলি বড় ব্লাড ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে সেগুলির বেশিরভাগই বেসরকারি সংস্থার কাছে রক্তদান করেছে। বেসরকারি সংস্থা চড়া দামে রক্ত বিক্রি করে।
হাসপাতালে ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত নিতে আসা বিশাল দাস বলেন, ক্যান্সারে আক্রান্ত আমার আত্মীয় হাসপাতালে ভর্তি। অস্ত্রোপচারের জন্য রক্তের প্রয়োজন। হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকেো নিতে গেলে রক্ত ডোনার প্রয়োজন বলে জানিয়ে দিয়েছে। জামালপুর থেকে আসা সুজাউদ্দিন মল্লিক বলেন, হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে এক ইউনিট রক্তের পেতে গেলে একদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অস্ত্রোপচারের করতে হবে বলেছেন চিকিৎসক। কীভাবে রক্ত জোগাড় করব, সেটাই এখন চিন্তার বিষয়।
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, এখন রক্তের সঙ্কট চলছে ঠিকই। গরম ও টানা বৃষ্টির পাশাপাশি এখন চাষের মরশুম চলছে।
সেজন্য শিবিরের সংখ্যা কিছুটা কম। সেজন্যই সমস্যা হচ্ছে। সিএমওএইচ আরও বলেন, বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিকে রক্ত দেওয়ার ব্যাপারে শুনেছি।