


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: গরম পড়তেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দেখা দিয়েছে রক্তের ঘাটতি। হাসপাতালে সব গ্রুপের রক্তই এখন বাড়ন্ত। এমনই পরিস্থিতি যে, রক্তের প্রয়োজন হলে রক্তদাতা আনলে তবেই মিলছে রক্ত। নেগেটিভ গ্রুপের রক্তও অমিল। গরমের শুরুতে রক্তের চাহিদা থাকলেও জোগান নেই। ডোনারদের নাম, ফোন নম্বর সংগ্রহ করে রেখেছে মেডিক্যাল কলেজের ব্ল্যাড ব্যাঙ্ক। প্রয়োজনে ডেকে এনে রক্ত নেওয়া হয় বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। পাশাপাশি পজিটিভ গ্রুপের রক্তের জোগান পর্যাপ্ত নেই বলেই জানিয়েছেন খোদ মেডিক্যালের প্রিন্সিপাল। তবে আগামী এক সপ্তাহ পর থেকে রক্তের সঙ্কট কিছুটা কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবে বলেই মনে করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রিন্সিপাল অমিত কুমার দাঁ বলেন, পর্যাপ্ত রক্তের যোগান নেই। আমাদের এখানে প্রচুর রক্তের চাহিদা রয়েছে। সেই তুলনায় যোগান দিতে পারছি না। নেগেটিভ রক্ত সাধারণত মজুত থাকে না। তাই ডোনারদের নাম ও ফোন নম্বর নিয়ে রাখা হয়। খুব প্রয়োজনে তাদের ডেকে রক্ত নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের পর থেকে রক্তের যোগান কিছুটা স্বাভাবিক হবে। এখন রমজান মাস চলছে। যে কারণে বড় রক্তদান শিবির আমরা পাচ্ছি না। ছোটখাটো যে সমস্ত রক্তদান শিবির হচ্ছে সেখান থেকেই যা রক্ত আসছে তা দিয়েই কোনওরকম চালাতে হচ্ছে।
তবে, মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের সঙ্কট থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগী এবং রোগীর পরিজনেরা। কারণ জেলার বিভিন্ন প্রান্তের অনেক মানুষ মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজেই চিকিৎসার জন্য আসেন। মুর্শিদাবাদ জেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ঝাড়খন্ড রাজ্য এবং বীরভূম জেলা থেকে বহু রোগী এখানে চিকিৎসা করাতে আসেন। এইসব জায়গার মুমূর্ষ রোগীদের পরিষেবা দেওয়ার জন্য বাড়তি রক্তের প্রয়োজন হয় বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
মেডিক্যাল কলেজের মেল সার্জিক্যাল বিভাগে এক রোগীকে ভর্তি করিয়ে এসে বহরমপুরের বাসিন্দা শান্তনু দে বলেন, বরাবরই এখানে রক্তের একটা ঘাটতি থাকে। গরমের সময় সেই ঘাটতি চরম আকার ধারণ করে। এখন ডোনার না নিয়ে এলে কোনও রক্ত দেওয়া হচ্ছে না। যার আপৎকালীন রক্তের দরকার তাদের ক্ষেত্রে খুবই সমস্যা হচ্ছে। সার্জারি বিভাগে আমার এক রোগী ভর্তি আছে। বুধবার তাঁর পজেটিভ গ্রুপের রক্ত লাগবে। তাও ডোনার জোগাড় করতে বলা হয়েছে। আমরা ডোনার নিয়ে এসেই রক্ত দেব।
রানিনগরের বাসিন্দা বুলবুল বেগম বলেন, আমরা মহাকুমা হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে এসে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছি। এখানে ভালো চিকিৎসা পাওয়ার আশায় দূরদূরান্ত থেকেই তো আসি। আমাদের এক পরিচিতের প্রসূতি রোগীরও রক্তের প্রয়োজন আছে। তবে ব্লাড ব্যাঙ্কে সব সময় পর্যাপ্ত রক্ত থাকছে না। রক্তের ঘাটতি আছে বলে আমাদের ডোনার আনতে বলছে। কী করব বুঝতে পারছি না।