


সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: সব্জির মরশুমে মাথায় হাত কৃষকদের। যে সেতু পেরিয়ে প্রতিদিন কোচবিহার জেলার ঘোকসাডাঙা ও নিশিগঞ্জের পাইকারি বাজারে ফসল নিয়ে পৌঁছন এলাকার চাষিরা, সেই সেতুই ভেঙে পড়ায় কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল যোগাযোগ ব্যবস্থা। মাথাভাঙা-২ ব্লকের উনিশবিশা গ্রাম পঞ্চায়েতের খরিকাবাড়িতে এই ঘটনায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নদীর দু’পারের বাসিন্দারা। বিশেষ করে কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছে দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে রাসায়নিক সারবোঝাই একটি ভারী ট্রাক সেতু পার হওয়ার সময়ই বিপত্তি ঘটে। ট্রাকের ভার সামলাতে না পেরে সেতুর মাঝের অংশ বসে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত। দীর্ঘদিন ধরেই সেতুটি বেহাল অবস্থায় ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, সেতুর বিপজ্জনক পরিস্থিতির কথা বারবার জানানো হলেও সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তার পরেও কীভাবে একটি ভারী ট্রাক সেতুর উপর দিয়ে পারাপারের অনুমতি পেল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ১৯৯৭ সালে বাম আমলে নির্মিত হয়েছিল খরিকাবাড়ির এই সেতু। অভিযোগ, নির্মাণের পর থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেতুটির যথাযথ সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়নি। দিনের পর দিন ঝুঁকি নিয়েই এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করছিলেন স্থানীয় মানুষ।
এই সেতুর উপর নির্ভরশীল নদীর দু’পারের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা। ঘোকসাডাঙা ও নিশিগঞ্জ দুই পাইকারি বাজারেই নিয়মিত সব্জি বিক্রি করতে যান এলাকার কৃষকরা। বর্তমানে সব্জির মরশুম চলায় প্রতিদিন প্রচুর কৃষিপণ্য এই পথ দিয়ে পরিবহণ করা হয়। সেতু ভেঙে পড়ায় এখন বিকল্প পথে ফসল নিয়ে বাজারে পৌঁছতে গিয়ে সময় ও খরচ দুই-ই বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন চাষিরা। সময়মতো বাজারে পৌঁছতে না পারলে উৎপাদিত সব্জি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে পারেন তাঁরা।
ঘটনার খবর পেয়ে এদিন এলাকায় পৌঁছন মাথাভাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অরবিন্দ বিশ্বাস। তিনি ভেঙে পড়া সেতু পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। অরবিন্দবাবু বলেন, 'সেতুটি অনেক পুরনো। সারবোঝাই একটি ট্রাক পার হওয়ার সময় কোনও কারণে সেতুটি ভেঙে পড়েছে। এর ফলে এলাকার মানুষের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। আপৎকালীন ভিত্তিতে চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি দ্রুত ওই জায়গায় নতুন সেতু তৈরির চেষ্টা করা হবে।'