


সংবাদদাতা, কাঁথি: খেজুরির কাউখালি এলাকায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দ্বারা নির্মিত ঝোপঝাড়ে ঢাকা ভগ্ন ও ধ্বংসপ্রাপ্ত ঐতিহাসিক লাইট হাউস বিলীন হওয়ার পথে এগোচ্ছে। এক শতকের বেশি সময় ধরে আলো দিয়ে গিয়েছে এই লাইট হাউস। বর্তমানে কাউখালি সংলগ্ন থানাবেড়িয়া মৌজায় ঝোপজঙ্গলে ঢাকা অবস্থায় পড়ে রয়েছে লাইট হাউসটি। খেজুরিতে সপ্তদশ শতকে সমৃদ্ধ বন্দর গড়ে উঠেছিল। বন্দরের স্বার্থে পোস্ট অফিস সহ নানা নিদর্শন গড়ে উঠেছিল। তার অঙ্গ হিসেবে তৈরি হয়েছিল লাইট হাউস। বন্দর কবেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ধ্বংসের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে এই লাইট হাউসটি। এলাকাবাসী এবং ইতিহাস বিদগ্ধ মানুষজনের দাবি, প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই লাইট হাউসটির অবশিষ্টাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক।
উল্লেখ্য, নিকটবর্তী হুগলি নদী ও বঙ্গোপসাগরে চলাচল করা জলযানগুলিকে আলোক সংকেত পাঠানোর জন্য এই লাইট হাউস বা বাতিঘর তৈরি করেছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ১৮০৮ সালে এই লাইট হাউসের নির্মাণের কাজ শুরু হলেও শেষ হয় ১৮১০ সালে। পাঁচটি তল বিশিষ্ট এই লাইট হাউসটি ৮০ফুট উচ্চতার ছিল। পরিষ্কার রাতের আকাশে রাতে ১৫মাইল দূর থেকে এই লাইট হাউসের আলো দেখা যেত। নদীতে চলাচলকারী জাহাজ ও অন্যান্য জলযানগুলিকে একটানা ১০৫বছর আলো দেওয়ার পর টেকনিক্যাল কারণে ১৯১৫সালে কিছুদিন আলোক সংকেত দেওয়া বন্ধ ছিল। ফের তা চালু হয়। ১৯২৫ সালে হুগলি নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় জাহাজ চলাচলের সংখ্যা অনেক কমে যায়। প্রয়োজনীয়তা কমতে থাকায় এবং খরচ বাঁচাতে ওই বছরই লাইট হাউস বন্ধ করে দেয় সরকার। তবে ১৯৪৩ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন জাপানি বোমারু বিমান হামলার আশঙ্কায় সুউচ্চ এই আলোক মিনারটির উপরিভাগের অনেকটা অংশ ডিনামাইট দিয়ে ভেঙে ফেলে সরকার। তারপর থেকে একটু একটু করে লাইট হাউসটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। একের পর এক ঝড়ঝঞ্ঝায় লাইট হাউসটি ধ্বংস হতে থাকে। এখনও ইতিহাসপ্রেমী মানুষজন খেজুরির নানা নিদর্শনের পাশাপাশি এই ভগ্নাবস্থায় থাকা লাইট হাউস দর্শন করে যান।
খেজুরির আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক তথা খেজুরি হেরিটেজ সুরক্ষা সমিতির সহ-সম্পাদক সুদর্শন সেন বলেন, আমরা চাই এই লাইট হাউসের অবশিষ্টাংশ সংরক্ষণ করে ইতিহাসের একটি নিদর্শন হিসেবে রেখে দেওয়া হোক। কিংবা এখানে নতুন লাইট হাউস গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হোক। নাহলে একদিন এই নিদর্শন মাটিতে মিশে যাবে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা খেজুরির জেলা পরিষদ সদস্য উত্তম বারিক বলেন, আমরা বিষয়টি জানি। এলাকার ইতিহাস প্রসিদ্ধ নিদর্শনগুলিকে সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য আগেই একটি খসড়া তৈরি করে রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করি, এব্যাপারে প্রয়োজনে উদ্যোগ নেওয়া হবে।