


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বান্ধবীর সঙ্গে অভিজাত বৈদিক ভিলেজে রুফ-টপ সুইমিং পুলে জল ক্রীড়ায় বান্ধবীর সঙ্গে মত্ত ছিল আসিফ হোসেন। একবালপুরে ২১ ভরি সোনা চুরির অভিযোগ রয়েছে তার নামে। লালবাজারের গোয়েন্দারা হানা দিয়েছেন বুঝতে পেরেই অবশ্য এক ভিলা থেকে দৌড়ে অন্য ভিলায় পালানোর শেষ চেষ্টা করেছিল আসিফ। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। বিস্তর ছোটাছুটির পর, গোয়েন্দারা হাতের নাগালে পেয়ে যান একবালপুরে এম এম আলি রোডের বাড়ি থেকে কানাডা প্রবাসী নববধূর ২১ ভরি সোনার গয়না আর নগদ ৪ লক্ষ টাকা চুরির মূল অভিযুক্ত আসিফকে।
ঘটনার সূত্রপাত ১৬ জুলাই। বাড়ির মালিক ঘরের দরজায় তালা দিয়ে দুপুরে কাজে বাইরে যান। বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে ‘মাস্টার কি’ দিয়ে টিপ তালা খুলে ২১ ভরি সোনার গয়না, নগদ ৪ লক্ষ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায় দুষ্কৃতী। ঘটনার পরদিন স্থানীয় একবালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। স্থানীয় থানার পাশাপাশি লালবাজারের অ্যান্টি বার্গলারি স্কোয়াডের গোয়েন্দারা তদন্তে নামেন। তদন্তে নেমে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ঘেঁটে লালবাজারের গোয়েন্দারা ওই তল্লাটে চাবির থোকা হাতে আসিফের ঘোরাঘুরির ছবি হাতে পান। কিন্তু এন্টালির বিবিবাগানের বাড়িতে হানা দিয়ে দেখা যায়, আসিফ বেপাত্তা।
ফলে গোয়েন্দাদের সন্দেহ গিয়ে পড়ে তার উপর। এরপর মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন খতিয়ে দেখে রাজারহাটের বৈদিক ভিলেজে হানা দিয়ে আটক করা হয় আসিফকে। লালবাজারে দফায় দফায় টানা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে আসিফ অপরাধের কথা স্বীকার করে নেয়। কিন্তু ২১ ভরি সোনার গয়না আর নগদ ৪ লক্ষ টাকার হদিস মিলছিল না। শেষে ঘরে র্যাকের জঞ্জাল ঘেঁটে গোয়েন্দারা প্রায় ১৭২ গ্রাম সোনার গয়না উদ্ধার করতে পেরেছেন। তবে নগদ ৪ লক্ষ টাকার পুরোটা বান্ধবী নিয়ে প্রমোদ ভ্রমণে সে বৈদিক ভিলেজে উড়িয়েছে বলে লালবাজার সূত্র জানাচ্ছে।