


অর্ক দে কলকাতা: ঘড়ির কাঁটা চলছে টিক টিক! ‘আর মাত্র ১০ দিন, আপনি প্রস্তুত তো?’ শহরের বিভিন্ন জায়গায় চোখে পড়ছে বিজ্ঞাপন। কলকাতা পুরসভার সোশ্যাল মিডিয়া পেজেও এমন ছবি ‘পোস্ট’ করা হচ্ছে। এহেন আকর্ষণীয় প্রচারে যে কারও নজর আটকাতে বাধ্য। কীসের জন্য এই কাউন্টডাউন? কৌতূহল জন্মাবে যে কারও। পুর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, আগামী ১ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে দেশের প্রথম ডিজিটাল জনগণনা—সেন্সাস ২০২৭। আদমশুমারির মতো একটি আপাত গুরুগম্ভীর বিষয়কে মানুষের কাছে সহজ করে তুলে ধরতে এভাবে গ্রাফিক্স, ছবি এবং কার্টুন দিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে। অভিনব প্রচার ইতিমধ্যে নজর কেড়েছে শহরবাসীর।
পুরসভা সূত্রে খবর, জনগণনার বিষয়টি মানুষের কাছে আরও মনোগ্রাহী করে তোলার এই পরিকল্পনা পুর প্রশাসক তথা কমিশনার স্মিতা পান্ডের মস্তিষ্কপ্রসূত। এই ধরনের বিজ্ঞাপন ডিজাইনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বিশেষ টিমকে। আগামী ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে (se.census.gov.in) জনগণনায় নিজস্ব তথ্য দিতে পারবেন নাগরিকরা। অর্থাৎ স্ব-গণনায় (সেলফ ইনিউমারেশন) অংশ নিতে পারবে শহরবাসী। ১৬ আগস্ট থেকে বাড়ি বাড়ি যেতে শুরু করবেন গণনাকর্মীরা। এই প্রক্রিয়া চলবে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তার আগে শহরের জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন করতেই এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। বিজ্ঞাপনে দেখা যাচ্ছে, হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন একজন পুরুষ এবং একজন মহিলা। মহিলার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রগতি’ এবং পুরুষের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিকাশ’। দেশ এগিয়ে চলেছে ডিজিটাল দুনিয়ায়। সেই উন্নয়ন বোঝাতে এই প্রতীকি নাম চয়ন বলে জানাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কোন ওয়েবসাইটে গিয়ে স্ব-গণনায় অংশ নিতে পারবেন নাগরিকরা, কীভাবে সেই ওয়েবসাইটে ঢুকে ধাপে ধাপে তথ্য দিতে হবে, যাবতীয় বিষয় সহজ ভাষায় বর্ণনা করে কার্টুন আকারে বিজ্ঞাপন তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ‘প্রগতি’ এবং ‘বিকাশ’ নাগরিকদের ভরসা দিচ্ছেন, এই ডিজিটাল গণনায় সবার যাবতীয় তথ্য ‘তাঁদের’ কাছে সুরক্ষিত! কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, তাদের লক্ষ্য হল জনগণনার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মসূচিকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা। অনেকেই সরকারি বিজ্ঞপ্তি পড়েন না, কিন্তু ছবি ও কমিক্স সহজেই মানুষের নজর কেড়ে নেয়। তাই কমিক্স-কার্টুনের মাধ্যমে জনগণনার সময়সূচি, গণনাকারীর পরিচয়, তথ্যের গোপনীয়তা এবং নাগরিকদের করণীয় সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।