


সংবাদদাতা, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় গোরু, মোষ ব্যাপক হারে ভাইরাল জ্বরে ভুগছে। ডাক্তারি পরিভাষাই এই রোগের নাম র্যাবডো ভাইরাল ফিভার। প্রাণী চিকিৎসকদের দাবি, মূলত বসন্তকালে ছোঁয়াচে এই রোগের সংক্রমণ ছড়ায়। তবে এই রোগে আক্রান্ত পশুর মৃত্যুর হার খুবই কম। মশা বা এঁটোলি থেকেই এই রোগ ছড়ায়। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের ডেপুটি ডাইরেক্টর সুব্রত সামন্ত বলেন, গোপালকদের এই রোগে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। পশুপালকদের স্থানীয় ব্লক পশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ নিতে বলেছি। ১৪টি ব্লকে মোবাইল ভেটেনারি ক্লিনিক পরিষেবা রয়েছে। ১৯৬২ নম্বরে( টোল ফ্রি) ফোন করলে বাড়িতে চিকিৎসা পরিষেবা মিলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোবাইল পরিষেবা উপলব্ধ। পাশাপাশি সুব্রতবাবু জানিয়েছেন, প্রাণিবন্ধু বা প্রাণিমিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরাই বাড়ি গিয়ে ভ্যাকসিন দিয়ে আসবেন।
এই সময় মশার উপদ্রব প্রচন্ড হারে বেড়েছে। ঝাঁকে ঝাঁকে মশা উড়ে বেড়াচ্ছে। তাতেই এবার র্যাবডো ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েছে। মূলত বসন্তকালে গোরু মোষের মধ্যে এই সংক্রমণ ছড়ায়। রোগের উপসর্গ কি? প্রাণী চিকিৎসকদের বক্তব্য, গোরুর পেট ফাঁপবে, খুঁড়িয়ে হাঁটবে, নাক দিয়ে জল ঝরবে। পশুর শরীরের উত্তাপ বাড়বে। চিকিৎসকদের দাবি, এই রোগ তিনদিনের বেশি স্থায়ী থাকে না। ছোঁয়েচে হওয়ায় গোয়ালের সমস্ত গোরুর মধ্যে সংক্রমন ছড়ায়। পারশালিকার গোপালক নিরঞ্জন ঘোষ বলেন, প্রথমে একটা গোরু আক্রান্ত হয়। ধীরে ধীরে চারটে গোরুই একই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। ভ্যাকসিন দিয়েছি। দুটো গোরুর দুধ কমে গিয়েছে।
কোনো কোনো গ্রামের প্রায় সিংহভাগ গোরু একই রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। যা দেখে গোপালকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়াতে শুরু করেছে। আতঙ্ককে হাতিয়ার করে বহু গ্রামীণ হাতুড়ে পশুচিকিৎসক ভুল বুঝিয়ে অসৎ উপায়ে উপার্জন বাড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। কাবিল শেখ বলেন, দুটো গোরুর পিছনে চার হাজার টাকা খরচ করে ফেলেছি। পশুচিকিৎসক বলছেন, আরও সময় লাগবে। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্তাদের বক্তব্য, গোপালকরা ব্লক পশু হাসপাতালে এলেই সঠিক চিকিৎসা পাবেন। অহেতুক এখানে ওখানে দৌড়ঝাঁপ করার কোনো প্রয়োজন নেই। নিজস্ব চিত্র