


নয়াদিল্লি: আচ্ছে দিন। বিকশিত ভারত। ‘গেরুয়া অভিধানে’র মুচমুচে শব্দগুলো ইদানীং ফিকে হয়ে গিয়েছে। শুধু ফ্যাকাশে হয়নি বছরে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি। স্বয়ং নরেন্দ্র মোদির প্রতিশ্রুতি। ‘নতুন ভারতে’র জন্য। সরকারে বিজেপি আছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও আছেন। কিন্তু বছরে দু’কোটির সেই প্রতিশ্রুতি বারবার ‘জুমলা’ হয়ে ফিরে আসছে। কারণ, চাকরি বিষয়টা সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার সঙ্গে আগাপাশতলা জড়িয়ে। প্রশ্নফাঁস, জেন জি বিক্ষোভের আবহে আরও একবার তা ফিরেছে। কারণ, সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত এক দশকে (২০১৫-২০২৪ সাল) কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে শূন্যপদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে।
তথ্য জানার অধিকার আইনে (আরটিআই) এই সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের সমাজকর্মী চন্দ্রশেখর গৌর। তার জবাবে সামনে এসেছে শূন্যপদের পরিসংখ্যান। সেখানে বলা হয়েছে, এই সময়কালে মোট অনুমোদিত পদের নিরিখে শূন্যপদের হার ১১.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২১ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০১৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকারি শূন্যপদের সংখ্যা ছিল ৪ লক্ষ ২১ হাজার। ২০২৪ সালে তা ৮ লক্ষ ২৪ হাজারে পৌঁছেছে। মজার বিষয় হল, এরই মধ্যে চুক্তিভিত্তিক কর্মী বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। ২০১৫ সালে চুক্তিভিত্তিক কর্মী ছিল ১৮.৬ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা হয়েছে ৪৯.১ শতাংশ। সোজা কথায়, বর্তমানে প্রতি দু’জনের মধ্যে একজন কর্মীই চুক্তিভিত্তিক। স্থায়ী পদ খালি। তাহলে চুক্তিভিত্তিকে নিয়োগ হচ্ছে কেন? চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিলে সরকারের তাঁদের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা থাকে না। সেটাই কি কারণ? এমনই একাধিক প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন কমল নাথ, জিতেন্দ্র পাটওয়ারির মতো কংগ্রেস নেতারা।
তথ্য বলছে, ২০১৫ সালে রেল বা স্বাস্থ্য—দু’টি ক্ষেত্রেই কোনো শূন্যপদ ছিল না। ২০২৪ সালে সেটাই বেড়ে হয়েছে যথাক্রমে ২ লক্ষ ৪০ হাজার ১২৫ ও ১ হাজার ৫৮২। বিরোধীদের প্রশ্ন, তাহলে ধরে নিতেই হয় নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বিজেপি পালন করেনি! উপরন্তু বেড়েছে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। পাবলিক এন্টারপ্রাইজেস সার্ভে অনুযায়ী, ২০১৫ সালে দেশে মোট ১৫ লক্ষ ৮৭ হাজার ১৪৯ জনের মধ্যে ২ লক্ষ ৯৫ হাজার ৯৭৫ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী ছিলেন। দশ বছরের মধ্যেই ছবিটার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। এক্ষেত্রে ১৫ লক্ষ ৪২ হাজার ৩৩৯ জনের মধ্যে ৭ লক্ষ ৫৮ হাজার ৬১১ জনই চুক্তিভিত্তিক কর্মী। অর্থাৎ, প্রায় অর্ধেক। কংগ্রেস সহ বিরোধীদের বক্তব্য, এবার অন্তত জুমলাবাজি ছেড়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুক সরকার। শুধু রিল বানিয়ে নীতিশিক্ষার পাঠ দিলে অন্নের সংস্থান হবে না। কাজ না পেলে আম জনতা কিন্তু গদি থেকে ছুড়ে ফেলতে বেশি সময় নেবে না।