


মুম্বই, ১৪ আগস্ট: সাইবার প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত একটি বেশ পরিচিত নাম ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’। এই ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর জালে পড়ে প্রতিদিনই প্রায় বেশ কিছু মানুষ প্রতারণার শিকার হন। এবার এই সাইবার প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে তদন্তে বড়সড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ থাকা এই মামলায় মুম্বই থেকে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। অভিযুক্তদের নাম ফাহিম মইন হুসেন সায়েদ এবং নইম মুইন সায়েদ।
ইডি সূত্রের খবর, রবিবার মুম্বই থেকে দু’জনকে হেপাজতে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের মুম্বইয়ের বিশেষ প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট আদালতে হাজির করা হলে আদালত ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করে। তার পর তাদের তাঁদের গোয়া নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার অর্থাৎ পানাজির বিশেষ আদালতে তাঁদের পেশ করে হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানাতে পারে ইডি।
এই ঘটনায় ইডির তদন্তের সূত্রপাত গোয়ার এক মহিলার অভিযোগ থেকে। ২০২৫ সালের মে ও জুন মাসে তাঁকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর নামে ভয় দেখিয়ে ‘সিক্রেট সুপারভিশন অ্যাকাউন্ট’-এ প্রায় ২.৬০ কোটি টাকা জমা দিতে বাধ্য করা হয়। তদন্তে ইডি জানতে পারে, প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা টাকা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ার পর নগদে তুলে নেওয়া হত। পরে সেই নগদ অর্থ আরবিআই অনুমোদিত মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রায় পরিবর্তন করা হত বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই সাইবার অপরাধী নেটওয়ার্কের সঙ্গে দেশের ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নথিভুক্ত প্রায় ১৫০ থেকে১৬০টি এফআইআর এবং প্রায় ৩০০টি ভুক্তভোগীর অভিযোগের যোগসূত্র রয়েছে। ইডির অনুমান, অভিযুক্ত চক্রটি প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্ক লেনদেন এবং আরও প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার নগদ লেনদেন করেছে। প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া অর্থের পরিমাণ আনুমানিক ৪ হাজার কোটি টাকা বলে এখনো পর্যন্ত তদন্তে উঠে এসেছে।
এই মামলায় ইডি ইতিমধ্যে গোয়া ও মুম্বইয়ে দু'দফায় তল্লাশি চালিয়ে ৩.২৫ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করে। দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সাইবার প্রতারণা চক্রের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া দুই অভিযুক্তের কীভাবে যোগাযোগ ছিল এবং বিপুল অঙ্কের অর্থ কোথায় ও কীভাবে পাচার করা হয়েছে, এখন সেই বিষয়গুলিই খতিয়ে দেখছে ইডি।