


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সাধ নতুন সংসদ। নতুন সচিবালয় গড়া। তার জন্য বটবৃক্ষ হোক নিম, জাম, আম, মেহগনি, দেবদারুর মতো গাছ, উপড়ে ফেলতে বাধ সাধেনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের নামে কয়েক হাজার গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। যদিও সরকারের যুক্তি, উপড়ে ফেলা হলেও মেরে ফেলা হয়নি। সেগুলিকে অন্যত্র বসানো হয়েছে। কিন্তু সেগুলির হাল কী? জীবিত আছে? এককথায় উত্তর, না। গত তিন বছরে এক জায়গা থেকে অন্যত্র গাছ স্থানান্তরের জন্য খরচ হয়েছে ৫ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা। যদিও ৪৩ শতাংশ গাছই বাঁচেনি।
সংসদেই সরকারের দেওয়া তথ্যে ওয়াকিবহাল মহলে প্রশ্ন উঠছে, মোদি সরকারের কি প্রকৃতি বাঁচানোর আদৌ স্বদিচ্ছা আছে? সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের জন্য উপড়ে ফেলা গাছের ভবিষ্যৎ নিয়ে নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের তথ্য বলছে, ৩ হাজার ৬০৯টি গাছ সরানো হয়েছে। তার মধ্যে ১ হাজার ৫৪৫ টি গাছ বাঁচেনি। নতুন সংসদ ভবন গড়ার জন্য ওই জমিতে থাকা ৪০২টি গাছ উপড়ে ফেলে পরে বসানো হয়েছে বদরপুর ইকো পার্কে। কিছু পুরনো সংসদ চত্বরে।
প্রধানমন্ত্রীর নতুন অফিস ভবন সেবাতীর্থ গড়ার জন্য ওই এলাকার ১৪৩ টি পুরনো গাছ উপড়ে বসানো হয়েছে ঘিতরনিতে। রাজেন্দ্রপ্রসাদ রোডে ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য আর্ট গুঁড়িয়ে দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে নতুন কেন্দ্রীয় সচিবালয় বিল্ডিং কর্তব্য ভবন। আর ওই জায়গায় নতুন ভবন গড়ার জন্য ১ হাজার ৭৩৪টি গাছ তুলে ফেলা হয়েছে। পাঠানো হয়েছিল বদরপুরে। সংসদের পিছনে চার্চ রোডে কেন্দ্রীয় সচিবালয় বাসস্ট্যান্ড উঠিয়ে দিয়ে গড়ে তোলা নতুন উপরাষ্ট্রপতি ভবন ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট এনক্লেভে’র জন্য উপড়ে ফেলা হয়েছে ৩৯০টি পুরনো গাছ। একইভাবে রাজপথ নাম বদলে কর্তব্য পথের জন্য তুলে ফেলা হয়েছে ৩২টি বড় গাছ। কিন্তু অধিকাংশ গাছই বাঁচেনি। তবুও ইতিহাস গড়ার নেশায় বুঁদ মোদি দিল্লির দূষণকে তোয়াক্কা না করে প্রকৃতির ওপর কুঠারাঘাত করে একের পর এক ইঁট কাঠ পাথরের বাড়ি বানিয়ে চলেছেন! ঐতিহ্যবাহী সাউথ ব্লক থেকেও সরিয়ে নেওয়া হল প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অফিস। ব্রিটিশ স্থপতি হারবার্ট বেকারের নকশায় ১৯৩১ সালে তৈরি সাউথ ব্লকই ছিল স্বাধীনতা-উত্তর দেশের মিলিটারি অপারেশনের আঁতুড়ঘর।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই অফিস থেকেই নির্দেশ এবং নজরদারি চলেছে উরি থেকে অপারেশন সিন্দুরের যাবতীয় কাজকর্ম। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের ওয়াররুমও ছিল এই সাউথ ব্লক। এখান থেকেই দাপট দেখিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। সব স্মৃতিই মুছে দিয়ে নরেন্দ্র মোদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে ঠাঁই দিচ্ছেন নতুন কেন্দ্রীয় সচিবলায় কতর্ব্য ভবন-টুতে। সেখানে রাজনাথ সিংয়ের নয়া অফিস সহ মন্ত্রকের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২২৫টি ঘর। নতুন ঝাঁ চকচকে অফিস পেল বটে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। কিন্তু গায়ে কাঁটা দেওয়া সব যুদ্ধ, তার জয়গাথার স্মৃতির পাতা হারিয়ে গেল!