


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ইস্যুতে বাংলায় কার্যত কোণঠাসা বিজেপি। এই অবস্থায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে কেন্দ্রের নয়া নির্দেশ নিয়ে। পিএমজিএসওয়াই (প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা) খাতে রাজ্যের প্রাপ্য ২৪০০ কোটি না দিলেও গ্রামবাংলার মানুষের আস্থা অর্জনে এই প্রকল্পের আওতায় তৈরি হওয়া সমস্ত রাস্তায় কিউআর কোড বসানোর নির্দেশ দিয়েছে মোদি সরকার। রাজ্যকে চিঠি পাঠিয়ে এই কথা বলা হয়েছে। ওই কোড স্ক্যান করে সাধারণ মানুষ রাস্তা খারাপের খবর সরাসরি জানাতে পারবে কেন্দ্রকে। কিন্তু প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ বকেয়া রেখে এমন নির্দেশ কেন্দ্রের দ্বিচারিতার আরেকটি উদাহরণ বলে অভিযোগ উঠেছে।
‘১০০ দিনের কাজ’ সহ একাধিক প্রকল্পের পাশাপাশি সড়ক যোজনা খাতে ন্যায্য প্রাপ্য না পাওয়া নিয়েও বিভিন্ন মঞ্চে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত সপ্তাহে বিধানসভায়ও এনিয়ে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশজুড়ে ১ লক্ষ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে পিএমজিএসওয়াই-৩ চালু করেছিল কেন্দ্র। দেশের অন্যান্য রাজ্য বরাদ্দ পেলেও পশ্চিমবঙ্গের কপালে প্রথম বরাদ্দই জুটেছিল তিন বছর পর। রাজ্যকে মোট ৬২৮৭ কিলোমিটার রাস্তার অনুমোদন দেওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৮৫৭ কিলোমিটারের অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। তার দু’বছর পরে আরও ৩৩৭৯ কিলোমিটার রাস্তার অনুমোদন আসে। এখনও ২০৪৪ কিলোমিটার রাস্তার অনুমোদন আসা বাকি। এখানেই শেষ নয়! বরাদ্দের প্রশাসনিক ছাড়পত্র দিলেও টাকাই আসেনি অনেকাংশে। অনুমোদিত কাজের নিরিখে রাজ্যের যেখানে পাওয়ার কথা ২৫৮৮ কোটি টাকা, সেখানে মিলেছে মাত্র ২২০ কোটি টাকা। রাজ্য প্রশাসনের দাবি, বাকি ২,৩৬৮ কোটি টাকা কবে পাওয়া যাবে, তার কোনও সদুত্তর নেই কেন্দ্রের কাছে। এই অবস্থায় গত ২ জুন রাজ্যকে চিঠি পাঠিয়ে প্রতিটি পিএমজিএসওয়াই রাস্তায় কিউআর কোড বসানো বাধ্যতামূলক বলে জানিয়ে দিয়েছে মোদি সরকার। কেন্দ্রের নির্দিষ্ট পোর্টাল থেকে কিউআর কোড পাওয়া যাবে। এ সংক্রান্ত ‘এসওপি’ চিঠির সঙ্গে অ্যানেক্সচার করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, কোড স্ক্যানের পর মানুষ খারাপ রাস্তার ছবি কেন্দ্রীয় পোর্টালে কীভাবে আপলোড করতে পারবে, তা বাংলায় লিখে দিতে হবে। রাস্তা তৈরির পর পাঁচ বছর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থার। এক্ষেত্রে তারা ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তার উপরও নজরদারি চালানো যাবে। এ বিষয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘হাস্যকর ব্যাপার। যদি ওরা টাকা দিয়ে এই কাজ করতে বলত, তাহলে সাধুবাদ জানাতাম। এটা মনে হচ্ছে নির্বাচনের আগে মানুষকে বোকা বানিয়ে রাজ্যকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আরও একটা কৌশল। তবে বাংলার মানুষকে এভাবে বিভ্রান্ত করা যাবে না।’