


কলেজপড়ুয়া অন্তরার শাড়ি পরতে বড্ড ভয়। একে তো সম্পূর্ণ নিজে পরতেই পারে না সে শাড়ি। তাও নাহয় কারও সাহায্য নেওয়া গেল। কিন্তু সারাদিন শাড়ি সামলানো! সে যেন এক ঝকমারি ব্যাপারই বটে। এদিকে কলেজ সোশ্যাল এগিয়ে আসছে। বন্ধুরা সব এথনিক ডে পালন করবে ঠিক করেছে একটা দিন। অর্থাৎ ভারতীয় পোশাক পরা জরুরি। সেক্ষেত্রে জিনস টপ বা ড্রেস তো চলবেই না, এমনকী সালোয়ার কামিজ পরলেও কেমন যেন বেমানান লাগবে। সেটা আবার চায় না অন্তরা। তাছাড়া সকলের সঙ্গে একইরকম সাজার মজাই আলাদা। বন্ধুরা সকলেই শাড়ির ফ্যাব্রিক, ডিজাইন ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু অন্তরার চিন্তাধারা বারবার ওই শাড়ি পরা আর সারাদিন তা সামলানোয় এসে আটকে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সমস্যার সমাধান করলেন অন্তরার মা। তাঁর মতে শাড়িকে যে শাড়ির মতোই পরতে হবে তারই বা কী মানে আছে? শাড়ি তো বিভিন্নভাবে পরা যায়। এমন সব উপায় যাতে শাড়িও পরা হল আবার তা সামলাতে প্রাণান্তকর দশাও হল না।
এই বিষয়ে ফ্যাশন ডিজাইনার রুক্মিণী দে জানালেন, শাড়ি নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট আজকের বিষয় নয়। ড্রেপিং স্টাইল বা শাড়ি পরার ধরন নিয়ে প্রচুর পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়ে চলেছে নিরন্তর। আপনারাও শাড়িকে ভিন্ন কায়দায় পরতে পারেন যাতে তা শাড়ির বদলে ড্রেসের মতোই লাগবে।
আঁচলেই কেরামতি
এক ধরনের শাড়ি এখন পাওয়া যাচ্ছে যার আঁচলে একটা গোলাকৃতি গর্ত করে তার চারপাশে এমব্রয়ডারি করা রয়েছে। যখন সাধারণভাবে শাড়িটি পরা হবে তখন সেই গর্ত ডিজাইনের মতো আঁচলে থাকবে। কিন্তু এই গর্তই শাড়িকে এথনিক ড্রেসে বদলে দেবে নিমেষে। কীভাবে তা বিস্তারিতই জানালেন রুক্মিণী। তাঁর মতে প্রথমে শাড়িটা সাধারণভাবে কুঁচি আঁচল সহ পরে নিতে হবে। তবে আঁচলের দিকটা একটু বেশিই রাখা দরকার। এবার আঁচল খুলে তার ভেতর যে গর্ত তা মাথা দিয়ে গলিয়ে নিতে হবে। এবার আঁচলটা গায়ে ও পিঠে ফ্ল্যাপের মতো পড়বে। তখন একটা মোটা বেল্ট দিয়ে কোমরে বেঁধে নিন। গলার কাছের এমব্রয়ডারির একটা সুন্দর নেকলাইন তৈরি করবে এবং হাতাগুলো কাফতানের মতো দু’দিক থেকে ঝুলে থাকবে।
সারং স্টাইল
একটা লেগিন্স আর স্প্যাগেটি স্লিভ টপ পরে নিন। এবার শাড়িটা বুকের উপর জড়িয়ে তার ঠিক মাঝখানে একটা গিঁট বেঁধে নিন। এরপর শাড়ির একাংশ নিয়ে খানিকটা আঁচল প্লিট করার মতো প্লিট দিয়ে স্ট্যাগেটি টপের ভিতর গুঁজে দিন। তারপর অন্যভাগ থেকে একইভাবে খানিকটা অংশ প্লিট করে গুঁজুন। এইভাবে অল্টারনেট করে শাড়ির দুইভাগ প্লিট করে টপের ভিতর গুঁজে নিন। তারপর একটা সরু বেল্ট দিয়ে কোমরের উপর দিকে বেঁধে দিন। নীচ থেকে লেগিন্সের খানিকটা অংশ দেখা যাবে। মনে হবে যেন সারাং স্টাইলের ড্রেস পরেছেন। এটা একটা ফিউশন লুক তৈরি করবে আপনার সাজে। শাড়িতে ভারতীয় লুক আসবে আবার তা পরার ধরন একটা ওয়েস্টার্ন স্টাইল আনবে। দুটো মিলিয়ে তৈরি হবে ফিউশন।
লেয়ারড স্কার্ট লুক
এই স্টাইলটা সম্প্রতি টিনএজারদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই স্টাইলের জন্য প্রথমে লেগিন্স আর জ্যাকেট স্টাইল টপের উপর সাধারণভাবে কুঁচি ও আঁচল দিয়ে শাড়ি পরে নিন। এবার আঁচলটা খুলে তা পিছন থেকে অল্প করে প্লিট করুন ও গুঁজে দিন। তারপর খানিকটা অংশ প্লেন রেখে আবারও প্লিট করে গুঁজুন। আবার খানিকটা অংশ প্লেন রেখে আরও খানিকটা অংশ প্লিট করে গুঁজে নিন। এইভাবে কিছুটা প্লেন এবং কিছুটা প্লিট করে আঁচলটা পিছন থেকে সামনে পর্যন্ত নিয়ে আসুন। কুঁচি যেখানে পড়বে তার চেয়ে খানিকটা ছেড়ে শাড়ির আঁচলের প্লিটও প্লেন অংশের ড্রেপ থাকবে। এক্ষেত্রে শাড়ি পরার সময় আঁচলটা একটু বেশিই লম্বা রাখতে হবে।
স্লিভলেস গাউন স্টাইল
আবারও লেগিন্স আর স্প্যাগেটি টপ পরে নিন। এবার শাড়িটা কোমরে জড়িয়ে মাঝখানে গিঁট মেরে বেঁধে নিন। এরপর শাড়ির উপর দিকের দুটো ধার নিয়ে বুকের উপর তুলে নিন। তারপর ঘাড়ের পিছনে বেঁধে নিন। এবার বাকিটা সামনের দিকে প্লিটের মতো ভাঁজ করে নিন। তারপর কোমর থেকে চওড়া বেল্ট দিয়ে শাড়িটা বেঁধে নিন। তাতে উপরের দিকটা একটা ভি নেকলাইনের স্লিভলেস গাউনের মতো লাগবে আর নীচের দিকটা লং পার্টেড গাউনের মতো দেখাবে। এরপর চাইলে ওই ভি নেকলাইনের মাঝখানে একটা সুদৃশ্য ব্রোচ আটকে রাখতে পারেন। অনেকে আবার চেনের সঙ্গে ক্লিপ পেনডেন্ট দিয়ে নেকলাইনটা আটকে রাখতে চান। এই একই স্টাইলে ঘাড়ের কাছে যেখানে বাঁধবেন সেখানে একটু ভিন্ন ধরন আনতে পারেন। সেক্ষেত্রে স্প্যাগেটি স্ট্র্যাপের লাইনে শাড়ির উপর দিকটাকে পেঁচিয়ে নিতে হবে। তারপর বাড়তি অংশ বেঁধে নিতে হবে। তাতে স্ট্র্যাপের সঙ্গে শাড়ির ফ্যাব্রিক মিলিয়ে একটা নকশা তৈরি হবে।
তবে এই যে শাড়িকে ড্রেসের মতো পরবেন তার জন্য নির্দিষ্ট ফ্যাব্রিক বাছতে হবে জানালেন রুক্মিণী। একটু হালকা মেটিরিয়াল না হলে শাড়িকে বিভিন্ন ধরনে পরা কঠিন। ফলে শিফন, গর্জেট, ক্রেপ সিল্ক ইত্যাদি ফ্যাব্রিকের শাড়ি বাছুন নতুনভাবে ড্রেপ করার জন্য। একই সঙ্গে শাড়ির ফল যেন ভালো হয়। শাড়িটা শুধুই হালকা ফ্যাব্রিকের হলে নানাভাবে ভাঁজ ও প্লিট করতে গেলে তা পায়ের থেকে উঠে যাবে। শাড়ির কোয়ালিটি যেন ভালো হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
কমলিনী চক্রবর্তী