


সংবাদদাতা, কাঁথি: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালকে ঢেলে সাজার কথা ঘোষণা করায় খুশি রামনগর বিধানসভা এলাকার মানুষজন। গত রবিবার মুখ্যমন্ত্রী দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থার(ডিএসডিএ) অফিসে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে দীঘা হাসপাতালের সামগ্রিক মানোন্নয়নের কথা ঘোষণা করেন। হাসপাতালে ১০০ বেড, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা চালু করার নির্দেশ দেন। এরপরই জেলা স্বাস্থ্যপ্তরের পক্ষ থেকে এই মর্মে খসড়া প্রস্তাব তৈরি করে স্বাস্থ্যভবনে পাঠানো হয়েছে। নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্যজেলার সিএমওএইচ অসিতকুমার দেওয়ান বলেন, বেডের সংখ্যা বাড়ানো, বিভিন্ন জরুরি পরিষেবার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং চিকিৎসক নিয়োগের আরজি জানানো হয়েছে। সরকার তথা স্বাস্থ্যদপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি কাজ হবে। সব মিলিয়ে রাজ্যের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে অবস্থিত দীঘা হাসপাতালের ভোল মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে বদলাতে চলেছে।
ওই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়, হাসপাতালে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেযজ্ঞ, হাড়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরেই খালি। বিষয়টি জানার পর দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ করার জন্য স্বাস্থ্যসচিবকে ফোনে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। একটাও আইসিইউ বেড না থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। জরুরি পরিষেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হাসপাতালে আইসিইউ(ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট), এইচডিএইউ(হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট), এসএনসিইউ(সিক নিওনেটাল কেয়ার ইউনিট) বিভাগে পাঁচটি করে শয্যা তৈরি করার কথা বলেন শুভেন্দু। শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে অন্তত ১০০টি করার কথা বলেন। বর্তমানে একটিই অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে। পোস্টমর্টেমের ব্যবস্থা নেই। নেই ব্লাড ব্যাংক। বেড়াতে আসা কোনো পর্যটক কিংবা স্থানীয় বাসিন্দার মৃত্যু হলে দেহ বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য শববাহী গাড়ি নেই। মোটরভ্যান কিংবা অন্য কোনো গাড়িতে দেহ ৪০কিলোমিটার দূরে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই বিষয়টিও মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী অবিলম্বে ট্রমা অ্যাম্বুল্যান্স সহ বাকি পরিকাঠামোরগুলির ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। প্রসঙ্গত, দীঘা হাসপাতালের উপর সংশ্লিষ্ট রামনগর বিধানসভা এলাকার মানুষজন তো বটেই, পার্শ্ববর্তী রাজ্য ওড়িশার বালেশ্বর জেলার একটি বড় অংশের মানুষ নির্ভরশীল থাকেন। বেড়াতে এসে কোনো পর্যটক অসুস্থ হলে কিংবা দুর্ঘটনায় পড়লে তাঁদের ভরসা দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতাল। হাসপাতালে বর্তমানে ৬৪টি বেড রয়েছে। বেশিরভাগ সময় বেডের অভাবে রোগীদের জায়গা হয় মেঝেতে। বেড সংখ্যা বাড়লে রোগীদের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। হাসপাতালে ইতিপূর্বে কিছু কিছু উন্নত বাহ্যিক পরিকাঠামো তৈরি হলেও কর্মীসংকটের কারণে পরিষেবা দিতে সমস্যা হয়। এখানে ১৫জন চিকিৎসক রয়েছেন। তার মধ্যে স্নায়ু, হৃদরোগ ও হাড়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। নার্সের সংখ্যা ৪০জন। আরও নার্স প্রয়োজন। ১২জন গ্রুপ-ডি স্টাফ রয়েছেন। এতে নানা পরিষেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। সংখ্যাটা দ্বিগুণ হওয়া দরকার বলে বক্তব্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। অনেক বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় এবং ঠিকঠাক পরিকাঠামোর অভাবে গুরুতর কিছু হলে ভরসা সেই মহকুমা হাসপাতাল কিংবা তাম্রলিপ্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালই ভরসা।
রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলেন, গোটা বিধানসভা এলাকার মানুষের কাছে খুশির খবর এটাই যে, হাসপাতালটি পরিষেবা ও পরিকাঠামো আরও উন্নত হতে চলেছে। আমি কিছুদিন আগে দীঘা হাসপাতাল পরিদর্শন করেছিলাম। আগামী কয়েকমাসের মধ্যে এটি একটি উন্নতমানের হাসপাতাল হবে। রামনগরের বাসিন্দা সুদীপ দাস বলেন, দীঘা হাসপাতালের সামগ্রিক মানোন্নয়ন হলে মানুষের ভরসা আরও বাড়বে। এলাকাবাসীকে দূরবর্তী হাসপাতালে যেতে হবে না।