


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পাকিস্তানি সেনার হাতে ‘বন্দি’ বিএসএফ জওয়ান পূর্ণম সাউয়ের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দুপুরে রিষড়ার বাসিন্দা পূর্ণমের স্ত্রী রজনী সাউকে মুখ্যমন্ত্রী ফোন করেন। দু’দফায় তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছে। স্বামী পাকিস্তানি সেনার কব্জায় যাওয়ার প্রায় ২০ দিন পরে এদিন কিছুটা আশ্বস্ত দেখা গিয়েছে রজনী সাউকে। তিনি বলেন, দিদি (মুখ্যমন্ত্রী) ফোন করেছিলেন। আমি আজ কিছুটা আশ্বস্ত বোধ করছি। এদিকে, শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এবার প্রধানমন্ত্রীকে উদ্যোগ নিতে হবে। দেশের জওয়ানের মুক্তির দায়িত্ব রাষ্ট্রের।
কয়েকদিন ধরেই রিষড়ার বাসিন্দা অন্তঃসত্ত্বা রজনী সাউ বারবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চান বলে আবেদন করছিলেন। এরই প্রেক্ষিতে রবিবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তাঁকে ফোন করেন। তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে রিষড়ার চেয়ারম্যান বিজয় মিশ্রকে ফোন করে পূর্ণমের স্ত্রীর নম্বর চান শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ। তারপরে তিনিই সেই নম্বর মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠিয়ে দেন। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী, রজনীদেবীকে ফোন করেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে দু’দফায় কথা বলেন। সাউ পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী ফোন করে রজনীদেবীকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। পারিবারিক অবস্থার হালহকিকত জানতে চান তিনি। তারপর ফোন কেটে দেন। কিছুক্ষণ পরে ফের ফোন করেন মুখ্যমন্ত্রী।
ওই পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্বিতীয় দফার ফোনে তিনি পূর্ণমের সুস্থতা নিয়ে সাউ পরিবারকে নিশ্চিত করেন। রজনী সাউ বলেন, মমতা দিদি আমাকে বলেছেন যি তিনি বিএসএফ শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমার স্বামীকে দ্রুত ফিরিয়ে আনা হবে বলে দিদি আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন। রজনী আরও বলেন, রবিবার রাত ও সোমবার দুপুরে দু’টি বৈঠক হওয়ার কথা আছে। তাতেই সুসংবাদ আসতে পারে। তিনি সবসময় পাশে আছেন এবং দেশের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গেও তিনি আমার স্বামীর জন্য কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। এদিন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বলেন, আমি একাধিকবার কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি বা তাঁর দপ্তরের কেউ কোনও সাড়া দেননি। বিএসএফ শীর্ষকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তাঁরা জানিয়েছেন, সবরকম চেষ্টা চলছে। রবিবার রাতে আমি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছি। দপ্তরের এক অফিসার আমাকে নিশ্চিত করেছেন যে, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হবে। একজন জওয়ানের নিরাপত্তা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব। এবার তাঁকে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রসঙ্গত, প্রায় ২০ দিন আগে পাঠানকোট সীমান্তে ডিউটির সময় আন্তর্জাতিক সীমানা লঙ্ঘনের অভিযোগে পূর্ণম সাউকে পাকিস্তানি সেনা আটক করে। তারপর থেকেই তাঁর সম্পর্কে আর কোনও তথ্য তাঁর পরিবার পায়নি। গত ২০ দিনেও ওই বিএসএফ জওয়ানের সর্বশেষ পরিস্থিতির কথাও পরিবারকে বিএসএফ, কেন্দ্রীয় সরকার কেউই জানায়নি বলে অভিযোগ।