


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবার ভোট ঘোষণা হতেই রাজ্যে বদলি করে দেওয়া হয়েছে একের পর এক শীর্ষ আধিকারিকদের। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কমিশনের এই অস্বাভাবিক সক্রিয়তা আদতে একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই ধরনের ধারাবাহিক বদলি গণতান্ত্রিক কাঠামোর পক্ষে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন দেশের অন্য প্রান্তের রাজনৈতিক নেতারাও। জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালও কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে সুর মিলিয়েছেন।
জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা মুখ্যমন্ত্রীকে সমর্থন জানিয়ে তাঁর এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছেন, 'এই ধরনের ব্যাপক রদবদল কেবল অ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতেই ঘটে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে, তবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। অবশ্য, পশ্চিমবঙ্গ আবারও সেই সত্যটি প্রমাণ করবে যা আমি সর্বদা বিশ্বাস করে এসেছি, রাজনৈতিক দলগুলির হয়ে নির্বাচনে জয় এনে দেন কর্মকর্তারা নন, বরং সেই দলগুলোর নেতারাই। নির্বাচন কমিশন ফলাফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে যতই কারসাজির চেষ্টা করুক না কেন, তাতে ফলাফলের কোনও পরিবর্তন হবে না। ভোট গণনার দিন মমতা দিদি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করবেন।'
অপরদিকে একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে সমর্থন জানিয়েছেন আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি বলেছেন, 'বিজেপি অসৎ উপায়ে নির্বাচনে জেতার জন্য নির্বাচন কমিশনকে তাদের অস্ত্র বানিয়েছে। আজ পশ্চিমবঙ্গে যা ঘটছে, দিল্লির নির্বাচনেও ঠিক তাই হয়েছিল। ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলা হয়েছিল, পুলিশ প্রশাসন বিজেপির গুণ্ডামিকে প্রশ্রয় দিয়েছিল এবং পুরো প্রশাসন বিজেপিকে জেতানোর কাজেই ব্যস্ত ছিল। আজ মমতা দিদিও গণতন্ত্রকে বাঁচানোর জন্য লড়ছেন। এই সংগ্রামে আমরা তাঁর সঙ্গে আছি।'
গত রবিবারের পর থেকে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করা হয়েছে। প্রথমেই সরানো হয় মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে। এরপর দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয় রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে। পাশাপাশি, একাধিক জেলার পুলিশ সুপার ও কমিশনারদেরও বদলি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বৃহস্পতিবার আরও ছ’জন কর্মরত আমলাকে অন্য রাজ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেয় কমিশন। এই ধারাবাহিক পদক্ষেপে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুরুতেই তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।