


মুম্বই: আগামী বছর ওয়ান ডে বিশ্বকাপে রোহিত শর্মাকে বাইরে রেখেই দল গড়তে চেয়েছিলেন জাতীয় নির্বাচকরা। কিন্তু তা সফল হয়নি। বরং রোহিত ইস্যুতে বোর্ড সচিব এবং নির্বাচকদের মধ্যে ফাটল তৈরি হয়েছে। যা ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে নজিরবিহীন। আসলে ইংল্যান্ড সফরে প্রথম দু’টি একদিনের ম্যাচে হিটম্যান ব্যর্থ হওয়ার পর বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় তাঁরে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন নির্বাচকরা। রোহিতের জায়গায় তরুণ এক ক্রিকেটারকে খেলানোর চিন্তাভাবনাও শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচকদের এই গেমপ্ল্যান লিক হয়ে যায়। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নির্বাচক কমিটির পক্ষ থেকে রোহিতকে ছেঁটে ফেলার খবর লিক করা হয়েছিল। যাতে হিটম্যান নিজেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন।
কিন্তু পোড়া খাওয়া রোহিত তৃতীয় ওয়ান ডে ম্যাচে দুরন্ত শতরান উপহার দিয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন নির্বাচকদের। পরে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়াও প্রকাশ্যে রোহিতের খেলা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই সওয়াল করেন। আর তাতেই বেজায় চটেন নির্বাচকরা। তাঁদের মতে, রোহিত ইস্যুতে বোর্ড সচিব মুখ খোলায় আখেরে নির্বাচকরাই ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছেন। কোনো তারকা ক্রিকেটারের অবসর ইস্যুতে বোর্ড বনাম নির্বাচকদের দ্বন্দ্ব নজিরবিহীন। রোহিত ইস্যুতে বেশ চাপে নির্বাচকপ্রধান অজিত আগরকর। সম্প্রতি তাঁর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। তবে দল নির্বাচন নিয়ে বার বার প্রশ্ন উঠেছে। গোপনে রোহিতকে বাদ দেওয়ার জন্য আগরকরে নেতৃত্বে যে নীল নকশা তৈরি করা হয়ছিল, তা মোটেও ভালো চোখে নেননি বোর্ড সচিব ও অন্য কর্তারা। তাই মনে করা হচ্ছে, অজিত আগকররের উপর বিসিসিআইয়ের আস্থা কমছে। তাঁকে সরিয়ে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে ভিভিএস লক্ষ্মণের নাম সামনে আসছে।
এদিকে,রোহিতের হয়ে মুখ খুললেন প্রাক্তন ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফ। তাঁর কথায়, ‘অবসরের ব্যাপারটি রোহিতের উপরই ছেড়ে দেওয়া হোক। ও নিজেও বলেছে, আমি যদি ভালো খেলতে না পারি, তাহলে আমাকে বাদ দেওয়া হোক। তার পরেও রোহিতের মতো ক্রিকেটারকে নিয়ে এই ধরনের কানাঘুষো মোটেও প্রত্যাশিত নয়। বরং ওকে খোলা মনেই খেলতে দেওয়া হোক। ভারতীয় দলের জার্সিতে ওর যে এখনও অনেক কিছু দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে, সেটা লর্ডসের ইনিংসের স্পষ্ট।’