


নয়াদিল্লি: নারায়ণ সান্যালের বিখ্যাত বই বিশ্বাসঘাতক। সেই বইয়ে কীভাবে ম্যানহাটন প্রজেক্টে পরমাণু বোমা তৈরির তথ্য রাশিয়ার কাছে পাচার করা হয়েছিল, তার বিবরণ রয়েছে। বি-২ স্পিরিট স্টিলথ বোম্বারের ক্ষেত্রেও হুবহু তেমনই হয়েছিল। পার্থক্য ছিল একটাই, রাশিয়ার বদলে এখানে তথ্য হাতিয়েছিল চীন। আর এই কাজটি করেছিলেন এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইঞ্জিনিয়ার।
অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই যুদ্ধবিমান দিয়েই ইরানে অপারেশন মিডনাইট হ্যামার চালিয়েছিল আমেরিকা। গুড়িয়ে দিয়েছিল তেহরানের একাধিক পরমাণু কেন্দ্র। বর্তমানে মাত্র তিনটি দেশের হাতে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির এই এয়ারক্র্যাফ্ট। আমেরিকা ছাড়াও সেই তালিকায় রয়েছে রাশিয়া ও চীন। ১৯৫৮ সালে প্রথম স্টিলথ প্রযুক্তিতে যুদ্ধবিমান তৈরি করে আমেরিকা। রাশিয়ার (তৎকালীন সোভিয়েন ইউনিয়ন) লেগে যায় আরও ১৭ বছর। আরও চার দশক পরে ২০১১ সালে এই প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান জে-২০ প্রথম পরীক্ষা চালায় চীন। আমেরিকা ও রাশিয়া নিজেদের মেধা ও চেষ্টার মাধ্যমে এই প্রযুক্তি তৈরি করছিল। চীনের প্রযুক্তি কিন্তু মৌলিক নয়। আমেরিকা থেকে সেই সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নিজেদের স্টিলথ যুদ্ধবিমান বানিয়েছিল বেজিং। এর নেপথ্যে ছিলেন এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত! তাঁর নাম নৌসির গোয়াডিয়া। তিনি বি-২ স্পিরিট স্টিলথ বোম্বারের প্রস্তুতকারী সংস্থায় কাজ করতেন। ওই যুদ্ধবিমানের আধুনিকীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। বলা ভালো, এই প্রযুক্তির গোটাটাই ছিল তাঁর নখদর্পণে। পরবর্তী সময়ে বিপুল অর্থের বিনিময়ে এই প্রযুক্তি চীনের হাতে তুলে দিয়েছিলেন আদতে মুম্বইয়ের বাসিন্দা গোয়াডিয়া। পরে গ্রেপ্তারও হন। চীনের হয়ে গুপ্তচর বৃত্তি, ষড়যন্ত্র সহ একাধিক ধারায় ২০১০ সালে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে মার্কিন আদালত। ৩২ বছর জেল হয় এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের। যদিও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন তিনি।
জানা গিয়েছে, ১৯৬০ সালে এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য আমেরিকায় গিয়েছিলেন নৌসির। অত্যন্ত মেধাবী হওয়ায় চাকরি পেয়ে যান নর্থরোপ গ্রুম্যানে। এই সংস্থাই তৈরি করে বি-২ স্টিলথ বোম্বার। বেশ কয়েক দশক সেখানে কর্মরত ছিলেন গোয়াডিয়া। সেই সময় রেডার ও ইনফারেড চিহ্নিতকরণ থেকে যুদ্ধবিমানকে আড়াল করা, এক্সহস্ট আধুনিকীকরণ, বোম্বারের প্রোপালশন সিস্টেমকে শক্তিশালী করার মতো বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজে অবদান রয়েছে তাঁর। ১৯৮০ সাল নাগাদ হঠাৎই নর্থরোপ থেকে অবসর নেন। তার পরও বহু গোপনীয় তথ্য তাঁর হাতেই থাকত। এরমধ্যেই ওই ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে চীনের হয়ে গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগ ওঠে। গোয়েন্দাদের দাবি, স্টিলথ যুদ্ধবিমানের ডিজাইন থেকে শুরু করে প্রযুক্তি—সবই চীনের হাতে তুলে দিয়েছেন গোয়াডিয়া। একাধিকবার সেদেশেও গিয়েছেন।