


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: গ্রামীণ এলাকায় সরস্বতী পুজোর দিন ঘুড়ি ওড়ানোর রেওয়াজ আছে। সেই সূত্রে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আমডাঙা, হাবড়া ও দত্তপুকুর জুড়ে দেদার বিক্রি হল নিষিদ্ধ চীনা মাঞ্জা। বাজার, ফুটপাত, রাস্তার মোড়, অস্থায়ী দোকান, সব জায়গাতেই প্রকাশ্যে চলল এই বেআইনি মাঞ্জার বেচাকেনা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লাটাই সমেত বিপজ্জনক চীনা মাঞ্জা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। সাধারণ রঙিন ঘুড়ির দাম রাখা হয়েছে মাত্র ২০ টাকার মধ্যে। ফলে অল্প খরচেই পাওয়া যাচ্ছে এই ধারালো সুতো, যা থেকে কেটে যায় মানুষের চামড়া। পুজোর দিন আমডাঙার বর্তির বিলের কাছে অস্থায়ী দোকান করে চীনা মাঞ্জা ও ঘুড়ি বিক্রি করছিলেন তাপস রায়। বলেন, সরস্বতী পুজোর দিন গ্রামবাংলায় ঘুড়ি ওড়ানোর রেওয়াজ রয়েছে। প্রতিবছরই পুজোর দিন ছোটরা ঘুড়ি ও এই মাঞ্জার লাটাই কিনে নিয়ে যায়। এ বছরও কিনেছে। অন্যদিকে নীলগঞ্জের ব্যবসায়ীর স্বপন দত্তও বলেন, প্রতিবছরই সরস্বতী পুজোর আগে ও পুজোর দিন চীনা মাঞ্জার লাটাই ও ঘুড়ি ভালো বিক্রি হয়। এবারও হল। কিন্তু এই মাঞ্জা তো বিপজ্জনক। তারপরেও বিক্রি করছেন? উত্তর অবশ্যই দিতে পারলেন না দুই ব্যবসায়ীর কেউই। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এভাবে প্রকাশ্যে চীনা মাঞ্জা বিক্রির পরেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। চীনা মাঞ্জা যে কতটা বিপজ্জনক, তার প্রমাণ মিলেছে আগেও। একের পর এক দুর্ঘটনার খবরও সামনে এসেছে। বাইক আরোহী থেকে পথচলতি মানুষের গলায় এই সুতো জড়িয়ে গুরুতর জখম হওয়া থেকে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এদিকে পুলিশের তরফে দাবি, এই ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।