


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ‘ফেলো কড়ি, নাও সার্টিফিকেট’! ছিন্নমূল উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা বলে কার্যত এভাবেই যেমন খুশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপি প্রভাবিত হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু ঐক্য মন্দিরের বিরুদ্ধে। বাসন্তীতে একাধিক ক্যাম্প করে সিএএ’র আওতায় নাগরিকত্বের জন্য ফর্ম পূরণ করে দেওয়ার বিনিময়ে কারও থেকে ১০০০, কারও থেকে ১২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় সুন্দরবনজুড়ে নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, মানুষকে ভয় দেখিয়ে এই কাজ করাচ্ছে বিজেপি। যদিও ক্যাম্পের আয়োজক সংগঠনটির দাবি, ফর্ম পূরণ ও নথি যাচাই করতে যথেষ্ট সময় লাগছে। তাই শিবির চালানোর জন্য কিছু টাকা নেওয়া হচ্ছে। কিছুদিন আগে বাসন্তীর পালবাড়ি ও শিবদাসী মোড়ে ক্যাম্প চালু হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, এমনভাবে প্রচার করা হয়েছে, যাতে মানুষ ঘাবড়ে গিয়ে ওই ক্যাম্পে যায়। আর যাঁরা সেখানে যাচ্ছেন, তাঁদের সেখানে নানা নথি খতিয়ে দেখে ফর্ম পূরণ করিয়ে দেওয়ার নাম করে মোটা টাকা নেওয়া হচ্ছে। সোনাখালির নরেন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এখানে আসি ২০০২ সালে। এদেশের নাগরিকত্ব নেই। কয়েকদিন আগে জানতে পারলাম এই ক্যাম্পের কথা। নথিপত্র নিয়ে সেখানে যাই। ওখানে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা সব দেখে ফর্ম ফিল আপ করিয়ে দিলেন। এর জন্য ১২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।’ কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য কোনও খরচ হওয়ার কথা নয়। এই অবস্থায় বাসন্তীর তৃণমূল বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। বিজেপি মানুষজনকে ভুল বুঝিয়ে এসব করছে। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। অবিলম্বে যাতে প্রশাসন এনিয়ে পদক্ষেপ করে, সেই আবেদন করব।’ হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নেতা তথা পালবাড়ি ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিকর্ণ নস্কর বলেন, ‘শিবির চালাতে যেটুকু খরচ দরকার, সেটাই নেওয়া হচ্ছে। আবেদনকারীদের ফর্ম পূরণ থেকে নথি যাচাই করতে সময় লাগে। যাঁরা এই কাজ করছেন, তাঁদের তো খরচ দিতে হয়। তাই সামান্য কিছু টাকা নেওয়া হয়েছে।’ বাসন্তীর এই ক্যাম্পেই টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। -নিজস্ব চিত্র