


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিলম্বে বোধোদয়? নাকি ক্ষোভের মাত্রা চরম আকার নিতেই ড্যামেজ কন্ট্রোলের মরিয়া চেষ্টা?
২০ দিন চোখ উলটে থাকার পর ককরোচ জনতা পার্টির সঙ্গে বৈঠকে বসতে বাধ্য হল কেন্দ্র। অতীতেও সামাজিক আন্দোলনে দেখা গিয়েছে, মোদি সরকার প্রাথমিকভাবে অনমনীয় মনোভাব প্রকাশ করেছে। তারপর দেশজুড়ে যখন সেই আন্দোলন সমর্থন পেয়েছে, নরম হতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র। জলজ্যান্ত উদাহরণ ছিল তিন কৃষি বিল প্রত্যাহারের দাবিতে কৃষকদের আন্দোলন। শেষ পর্যন্ত তিনটি আইনই প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় সরকার। এবার ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনেও প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল যথারীতি উদাসীনতা ও উপেক্ষা। দিল্লির যন্তরমন্তরে সরকারের চোখের সামনে সোনাম ওয়াংচুক এবং একঝাঁক তরুণ বিক্ষোভকারী অনশন করেছে। কিন্তু সরকার কোনও নমনীয়তা দেখায়নি। পাঠায়নি প্রতিনিধিও। উলটে পুলিশ পাঠিয়ে জোর করে ওয়াংচুককে ধরনাস্থল থেকে সরিয়ে হাসপাতালে ভরতি করানো হয়েছে। এই পদ্ধতিকে একটিই মাত্র আখ্যা দেওয়া হয়েছে—দমনপীড়ন। কিন্তু সোমবারের সংসদ অভিযান যে এরকম প্রবল বিক্ষোভের জোয়ারে পরিণত হতে চলেছে, সেটা বুঝতে পেরে প্রবল চাপে পড়ে যায় মোদি সরকার। উপরন্তু সোনাম নিজেও জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর অনশন চলবে। অর্থাৎ, মঙ্গলবার ২৪তম দিনে পড়তে চলেছে তাঁর অনশন। আর এরই ফলশ্রুতি—অবশেষে সব জেদ সরিয়ে বিক্ষোভ ও অনশনকারী ককরোচ জনতা পার্টির সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয় মোদি সরকার। যন্তরমন্তর থেকে শুরু হওয়া ‘সংসদ অভিযান’ যখন দিনভর মধ্য দিল্লিকে কার্যত স্তব্ধ করে দিচ্ছে, তখন সিজেপির প্রতিনিধির সঙ্গে ১০ মিনিটের বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করানোর পর।
বিক্ষোভকারীদের শর্ত মানতে এদিন একপ্রকার বাধ্য হয়েছে সরকার। কারণ প্রথমে সরকারপক্ষের প্রস্তাব ছিল, জেলাশাসক অথবা কোনো সচিব স্তরের আধিকারিক সরকারের হয়ে কথা বলবে। সেই প্রস্তাব উড়িয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁরা জানিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় পূর্ণ মন্ত্রী ছাড়া কারও সঙ্গে আলোচনা নয়। তারপরই স্থির হয়, কথা বলবেন জগৎপ্রকাশ নাড্ডা। নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক শেষে আন্দোলনকারীদের অন্যতম নেতা সৌরভ দাস বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী সব কথা শুনেছেন। আমাদের দাবি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। তিনি বলেছেন, এ নিয়ে সরকারের অন্দরে কথা বলব। সরকার কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, অবশ্যই জানানো হবে।’ নাড্ডা নিজেও জানান, ‘অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিদের দাবি নিয়ে আলোচনা হবে।’ এদিকে নাড্ডার সঙ্গে যখন সিজেপির এই ‘মীমাংসামূলক বৈঠক’ হচ্ছে, তারপরই সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঘরে প্রবেশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। স্বল্প সময়ের নয়, প্রায় তিন ঘণ্টা তাঁদের মধ্যে বৈঠক হয়। স্বাভাবিকভাবে জল্পনা চরমে যে, এতক্ষণ ধরে ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে অমিত শাহ কী আলোচনা করলেন?