


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ মঙ্গলবার ২১০টি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল বা মোবাইল মেডিকেল ইউনিটের (এমএমইউ) উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুরে স্বাস্থ্যভবন থেকে এই পরিষেবাসহ বেশকিছু স্বাস্থ্যপ্রকল্পের কথা ঘোষণা করতে পারেন তিনি। মমতার এই মাস্টারস্ট্রোকে রাজ্যের গ্রামীণ এলাকা, বিশেষত প্রান্তিক অংশের মানুষ বিশেষ উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে নদী-নালা-ব্রিজ পেরিয়ে কলকাতা বা বড়ো-মাঝারি শহরের সরকারি হাসপাতালগুলিতে আসার দরকার পড়বে না। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এই প্রকল্পের উদ্বোধন তাত্পর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য পরিবহণ শাখার ডিজাইনে তৈরি এই ফাইভ জি ভ্রাম্যমাণ হেলথ ইউনিটকে মিনি হাসপাতালও বলা যেতে পারে। সেখানে থাকবেন চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। ৭-৮ সিটের প্রতিটি ইউনিটে হাসপাতালে থাকবে অনলাইন প্রেসক্রিপশন, ইসিজি ও রক্ত সংগ্রহ এবং পরীক্ষার সুযোগ। চিকিৎসকদের রোগী দেখার সুবিধার জন্য আছে বিশেষ এগজামিনেশন রুমও। বেশকিছু এমএমইউয়ের সঙ্গে থাকবে পোর্টেবল এক্স-রে এবং ইউএসজির সুবিধাও। ২১০টি এমন ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালের মধ্যে কমবেশি প্রায় ৩০টি আইসিইউ মোবাইল হাসপাতালও থাকবে।
দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, ১২ নভেম্বর থেকে জেলায় জেলায় এর পরিষেবা শুরু হচ্ছে। আপাতত ১৩টি জেলায় কাজ করবে এগুলি। পিছিয়ে পড়া জেলাগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালগুলির মাধ্যমে স্বাস্থ্যইঙ্গিতে অনলাইনে রোগী দেখার কাজও শুরু হবে। কোন জেলা কতগুলি হাসপাতাল পাবে, তা সরকারের শীর্ষমহল ঠিক করছে। ভেহিকল লোকেশন ট্র্যাকিং ডিভাইস থাকায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে স্বাস্থ্যভবনের কাছে। চলে যাবে প্রত্যন্ত এলাকার বাড়ি বাড়ি। এই এক-একটি মিনি হাসপাতাল কিনতে রাজ্যের খরচ হচ্ছে আনুমানিক ৪০ লক্ষ টাকা। যেসব গাড়িতে ইউএসজি, এক্স-রে থাকবে, সেগুলির জন্য খরচ পড়ছে আরও বেশি। সব মিলিয়ে গ্রামীণ এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রকল্পের পিছনে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে রাজ্য। এই প্রকল্পে কর্মসংস্থানও হচ্ছে। মাসে ১৬ হাজার টাকা বেতনে ২৩১ জন চালক এবং ১৫ হাজার টাকা বেতনে ২৩১ জন মোবাইল মেডিকেল ইউনিট অ্যাটেনডেন্ট নিয়োগ করেছে রাজ্য।