


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের পদস্থ কর্তাদের বদলি তরজার মাঝেই সিনিয়র ডব্লুবিসিএস (এগজিকিউটিভ) অফিসারদের পদমর্যাদায় আঘাতের অভিযোগ উঠল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। রাজ্যের ৭৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার বদলির আড়ালে সিনিয়র অফিসাররা অবনমন বা পদাবনতির শিকার হয়েছেন বলেই দাবি প্রশাসনিক মহলের। মঙ্গলবার রাতে ৭৩ জন আরও-কে বদলি করেছে কমিশন। দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন আরও-দের মধ্যে ৪৭ জন হলেন ডব্লুবিসিএস অফিসার। তাঁদের মধ্যে ২০ জনের পদমর্যাদা খর্ব করে জুনিয়র অফিসারদের অধীনে নিযুক্ত করেছে কমিশন। তবে কমিশনের ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নজরে এসেছে মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র ভবানীপুরের আরও নিযুক্ত করার ক্ষেত্রে। এখানে আনা হয়েছে নন্দীগ্রামের প্রাক্তন বিডিও সুরজিৎ রায়কে। তিনি ২০১১ ব্যাচের ডেপুটি সচিব র্যাঙ্কের ডব্লুবিসিএস অফিসার। তাঁকে নন্দীগ্রাম থেকে এনে কলকাতায় ল্যান্ড অ্যান্ড ল্যান্ড রেকর্ডসের অতিরিক্ত ডিরেক্টর করা হয়েছে। এই পদে বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষ সচিব বা অতিরিক্ত সচিব পদের আধিকারিককে দেওয়ার রীতি থাকলেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডেপুটি সচিব পদের আধিকারিককে। অথচ একেবারে বিপরীত ঘটনা ঘটেছে তার পাশের রাসবিহারী কেন্দ্রেই। এখানে আরও পরিবর্তন করতে গিয়ে ২০০১ ব্যাচের উত্তমকুমার মণ্ডলের মতো সিনিয়র অফিসারকে বসানো হয়েছে কলকাতায় ল্যান্ড রেকর্ডস অ্যান্ড সার্ভে ডিরেক্টরেটের অ্যাসিস্টেন্ট ডিরেক্টর পদে।
কমিশনের এই তুঘলকি সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিমানবন্দরে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন কমিশন কার ইশারায় চলছে? নন্দীগ্রামের বিডিও আসছেন ভবানীপুরে! কারণ গদ্দারের নিজের লোক। গতকাল ৭৩ জন আরও-কে বদলি করেছে। এর আগে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপিসহ ৬০ থেকে ৭০ জন আইএএস/আইপিএস অফিসারকে বদলি করেছে। বহু অফিসারকে রাজ্যের বাইরেও পাঠিয়ে দিয়েছে।’
রবিবার ভবানীপুরে কর্মিসভায় একুশে নন্দীগ্রামে লোডশেডিং প্রসঙ্গে সতর্ক করেন মমতা। একইভাবে বিতর্ক শুরু হয়েছে আরো একঝাঁক আরও পোস্টিং নিয়ে। কারণ, তাঁদের সকলকেই কাজ করতে হবে জুনিয়রদের অধীনে। ডব্লুবিসিএস সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এবং অতিরিক্ত সচিব সৈকত আশরাফ আলিকে মালদহে রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেলের প্রোজেক্ট ডিরেক্টর করা হয়েছে। তিনি মালতিপুরের আরও হলেন। তাঁকে কাজ করতে হবে অনেক জুনিয়র অতিরিক্ত জেলাশাসকের অধীনে। হরিণঘাটার আরও হলেন এডিএম মৈত্রেয়ী চক্রবর্তী। তাঁকে দু-ধাপ নীচের ডিস্ট্রিক্ট ইয়ুথ অফিসার করা হয়েছে!
একইভাবে একাধিক অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিবকে ডিস্ট্রিট ইয়ুথ অফিসার, ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসের এইও-র মতো পদে নামানো হয়েছে।
অন্যদিকে, মালদহ জেলার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব ২০০৯ ব্যাচের আইপিএস জয়ন্ত কন্ত-কে দিয়েছে কমিশন। তিনি বিহারের বিজেপি নেত্রী স্মৃতি পাসোয়ানের স্বামী। জামুই বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির টিকিট পাওয়ার দৌড়ে ছিলেন তিনি। এই উদাহরণ তুলে ধরে ফের একবার কমিশন-বিজেপি আঁতাঁতের অভিযোগে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।