


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অর্থনীতি নিয়ে চরম আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ। বিগত তিন বছর ধরে আমজনতা ব্যাঙ্কের রেকারিং ডিপোজিট, ফিক্সড ডিপোজিট, শেয়ার বাজারে সরাসরি লগ্নির পরিবর্তে অনেক বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে মিউচুয়াল ফান্ডে। বিশেষ করে এসআইপির মাধ্যমে লগ্নিতে। স্মল, লার্জ, মিডিয়াম ক্যাপ ফান্ডগুলিতে বিপুল লগ্নি বেড়েছে। শেয়ার বাজার দ্রুত ৮০ হাজারের দরজায় পৌঁছে যাওয়ার অন্যতম কারণই ছিল, এই সাধারণ লগ্নিকারীদের জমা করা অর্থ। কিন্তু অর্থনীতির মন্দার আভাস পাওয়া যাচ্ছে সর্বক্ষেত্রে। আর পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে সেই শঙ্কা আরও বেশি করে জমাট বেঁধেছে। তারই ফলশ্রুতি হিসাবে দেখা যাচ্ছে মিউচুয়াল ফান্ড থেকে এবার মানুষ মুখ ফেরাচ্ছে। বিগত দু মাস ধরে মিউচুয়াল ফান্ডে টাকা রাখার প্রবণতা কমে চলেছে। বিশেষ করে এসআইপি বাতিল হচ্ছে নিত্যদিন। দেখা যাচ্ছে এপ্রিল মাসে যেখানে এই খাতে ৩৮ হাজার কোটি টাকা জমা হয়েছিল। মে মাসের শেষে তা কমে হয়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা। শুধু তাই নয়। বিগত ১২ মাসের মধ্যে এখন মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নির পরিমাণ সর্বনিম্ন। কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে, যে রিটার্নের আশায় কম সুদের ব্যাংক ও ডাকঘরের সঞ্চয় ছেড়ে মধ্যবিত্ত পর্যন্ত মিউচুয়াল ফান্ডে যোগ দিয়েছে, তা এখন তলানিতে। অ্যাসোসিয়েশন অব মিউচুয়াল
ফান্ডস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পেট্রপণ্যের দাম বৃদ্ধির পর পাল্লা দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে ভারতে।
অন্যদিকে শেয়ার বাজারের অগ্রগতি থমকে গিয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, বাজারে ধস নামলে জমা টাকার পরিমাণও কমে যাবে। কবে শেয়ার বাজারে জোয়ার আসবে, সেই
ঝুঁকির মধ্যে অনেকেই যেতে চাইছে না। সেই কারণেই সকলেই চাইছে মিউচুয়াল ফান্ড বন্ধ করতে। এদিকে অর্থনীতি নিয়ে মোদি সরকারকে তোপ দেগেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। তিনি শনিবার বলেন, মূল্যবৃদ্ধি আকাশছোঁয়া। সাধারণ মানুষ নিত্যপণ্য কিনতেই নাজেহাল। যুবসমাজের কাছে কমর্সংস্থান নেই। অথচ বিজেপি ব্যস্ত বিরোধী দলের এমপি, এমএলএদের কেনাকাটার শপিং করতে। খাড়্গের বক্তব্য, এটাই হল ৮০ বছরের মধ্যে সবথেকে ব্যর্থ সরকার।