


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেনজির সংঘাতে শহরের দুই শতাব্দী প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শুক্রবার হিন্দু স্কুল ও সংস্কৃত কলেজের শিক্ষকরা জড়ালেন নজিরবিহীন বচসায়। গোটা ঘটনার সাক্ষী থাকলেন শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। বচসার কেন্দ্রে হিন্দু স্কুল চত্বরের একটি ভবন। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য, ‘বহিরাগতরা ভবনটি দখল করতে এসেছিলেন।’ অন্যদিকে, সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বক্তব্য, ‘সরকারি নির্দেশ পালন করতে আধিকারিকরা গিয়েছিলেন। আমরাও গিয়েছিলাম।’হিন্দু স্কুল চত্বরে থাকা ছায়া ঘেরা একটি ভবনের উপর টাঙানো বোর্ডে লেখা, ‘বঙ্গীয় সংস্কৃত শিক্ষা পরিষদ’। প্রধান শিক্ষক শুভ্রজিত্ দত্ত বলেন, ‘ইতিহাস বলছে, ১৯৬৪ সালে দাঙ্গার সময় হিন্দু স্কুলের ভিতর অফিস করার জন্য অস্থায়ীভাবে ওই ভবন দেওয়া হয়েছিল পরিষদকে। তখন থেকে তারা ওখানেই রয়েছে। কিন্তু ভবনটি আমাদের গর্ভগৃহ। ওখান থেকে হিন্দু স্কুলের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এখনও সেটির ভিতর আমাদের পূর্বতন প্রধান শিক্ষক রসময় মিত্রর মূর্তি রয়েছে। বহু পুরনো ফলক রয়েছে।’ শুভ্রজিত্ দত্ত এই স্কুলেরই প্রাক্তনী বলে জানিয়েছেন। ‘এই ভবনটি ২০১৬ সালে হেরিটেজ কমিশনের দ্বারা হেরিটেজ বিল্ডিং হিসেবে ঘোষিত। এই পরিস্থিতিতে সেটি কীভাবে সংস্কৃত কলেজের মালিকানাধীন হবে?’ এই প্রশ্ন তুলেছেন হিন্দু স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকরাও।
অন্যদিকে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে একটি সরকারি মেমোর পরিপ্রেক্ষিতে সংস্কৃত কলেজ চিঠি দিয়েছিল উচ্চশিক্ষা দপ্তরকে। জানিয়েছিল, শুক্রবার দুপুর একটা নাগাদ পরিষদ সংক্রান্ত হস্তান্তরের কাজটি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সে চিঠির প্রতিলিপি তারা পাঠায় হিন্দু স্কুল কর্তৃপক্ষকেও। এটি পাওয়ার পর শুরু হয় বিতর্ক। যা এদিন শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের সামনে বচসায় পরিণত হয়। এদিন হিন্দু স্কুলের প্রধান শিক্ষক যুক্তি দেন, ‘ওই চিঠিতে ভবন হ্যান্ড ওভারের কথা বলা হয়নি। চার্জ হ্যান্ড ওভারের কথা বলা হয়েছে। ওই চিঠিতেই সংস্কৃত কলেজ ভবনটিকে ‘আওয়ার প্রেমিসেস’ বলে উল্লেখ করেছে। আমরা তারই প্রতিবাদ জানিয়েছি। ওই ভবনের চাবি আমাদের কাছেই থাকে। সংস্কৃত শিক্ষা পরিষদ শুধুমাত্র ব্যবহার করে।’ অন্যদিকে সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাজকুমার কোঠারির বক্তব্য, ‘বিকাশ ভবনের আধিকারিকরা ওখানে গিয়েছিলেন। হঠাত্ই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ওখানে আসেন। ওঁর আচরণ অনভিপ্রেত। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিক, শিক্ষকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেই হাঙ্গামার ফলে আমরা আজ হস্তান্তরের কাজ করতে পারলাম না। গোটা বিষয়টি দপ্তরকে জানিয়েছি। লিখিতভাবেও জানাব। দু’টিই তো সরকারি প্রতিষ্ঠান। এমন আচরণের মানে আমরা বুঝতে পারিনি। এবার দপ্তর যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করব।’
হিন্দু স্কুলের তরফেও শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা দপ্তরকে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে। সবমিলিয়ে দুই শতাব্দী প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অভাবনীয় বিতর্কের মুখে পড়ে চলে এসেছে চর্চার কেন্দ্রে।