


ফিরদৌস হাসান, উরি: ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মাধ্যমে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনা। নিখুতঁভাবে বেছে বেছে ধ্বংস করা হচ্ছে পাকিস্তানের সেনা পরিকাঠামো। জবাবে জম্মু-কাশ্মীরে সীমান্ত বরাবর ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায় নাগাড়ে শেলিং চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ। গোলাগুলির জেরে ভেঙে পড়েছে একাধিক ঘরবাড়ি। অনেক জায়গায় আবার দেওয়ালে বড় ছিদ্র হয়ে গিয়েছে। বিপর্যস্ত জন জীবন। আকাশে ভাসছে সাইরেনের শব্দ। প্রাণ বাঁচাতে বাসিন্দাদের নিকটবর্তী ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। উরি, পুঞ্চ থেকে কুপওয়ারা। সর্বত্র আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট।
উরির জিঙ্গলে রাতভর শেলিং চালায় পাকিস্তান। প্রতিবেশী দেশের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক বাড়ি। শনিবার সকালে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরাচ্ছিলেন আবদুল আজিজ। গোলাগুলির জেরে তাঁর বাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আবদুলের কথায়, ‘ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি রয়েছে। তারপরে যে এমনটা হতে পারে, ভাবতেই পারিনি। অনেক কষ্ট করে বাড়ি বানিয়েছি। মুহূর্তের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল।’
রাতের অন্ধকার নামতেই আতঙ্ক গ্রাস করেছে উরির বাসিন্দাদের। বৃহস্পতিবার রাত থেকে হামলা চালাচ্ছে শাহবাজ শরিফের দেশ। গোলাগুলির শব্দে ঘুম উড়ে গিয়েছে গ্রামবাসীদের। বাড়ির ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে মহম্মদ আশিক বলছিলেন, ‘শেলিং থামতেই চাইছে না। দু’দিন ধরে জীবন বাঁচাতে প্রার্থনা করে যাচ্ছি। বাড়ি বানাতে গোটা জীবন লেগে গিয়েছে। কিছুই আর অবশিষ্ট নেই।’ একই অবস্থা কুপওয়ারার কেরান ও চৌকিবাল সেক্টরের। কোনও প্রাণহানি না হলেও মুহূর্তের মধ্যে যেন সবকিছু বদলে গিয়েছে। কান্না ভেজা গলায় এক বাসিন্দার কাতর আর্জি, ‘গোলাগুলি শুরু হলে কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। সাধারণ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। আমাদের জন্য বাঙ্কারের ব্যবস্থা করা হোক।’
বাসিন্দাদের সতর্ক করতে বারবার সাইরেন বাজাচ্ছে প্রশাসন। সেই শব্দেই প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার অসংখ্য নিরীহ বাসিন্দা। জম্মুর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা রেহারি কলোনি। সেখানেই পরিবার নিয়ে থাকেন গুলশন দত্ত। শনিবার ভোরে সাইরেনের শব্দে তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়। তার জেরেই সকলের প্রাণ বেঁচে গিয়েছে। গুলশনের স্ত্রী বলছিলেন, ‘সাইরেনের শব্দ শুনতেই ব্যালকনিতে চলে আসি। তারপর ছুটে একতলায় নেমে যাই। কিছুক্ষণ পরেই বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা বাড়ি। সাইরেনের শব্দ আমাদের প্রাণরক্ষা করেছে। না হলে এতক্ষণে মরে যেতাম।’