


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সরকারি নির্দেশকে তোয়াক্কা না করেই ‘দখল’ হচ্ছে নদীর চর! এর ফলে যেকোনও সময় বিপত্তি ঘটে যেতে পারে। তাই, এনিয়ে মহকুমা প্রশাসন, সেচদপ্তর ও পুরসভাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানালেন কলকাতা হাইকোর্টের এক আইনজীবী। মূলত, পরিবেশরক্ষা ও জনস্বার্থেই তাঁর এই অভিযোগ বলেই জানা গিয়েছে।
রাজ্যের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র ইছামতী নদীর তীরে টাকি। বছরের অধিকাংশ সময়ে এখানে পর্যটকদের ঢল নামে। কম সময়ে ও অল্প খরচে কলকাতা থেকে কাছে কোথাও ঘুরতে যেতে চাইলে পর্যটকদের তালিকায় অবশ্যই থাকে বসিরহাটের টাকি। এখানের হোটেলে এলেই প্রথমেই নজর যাবে বাংলাদেশে। পরপর ভ্রমণ করা যায় পুবের বাড়ি, রাজবাড়ি, ম্যানগ্রোভ থেকে মিনি সুন্দরবন। এছাড়া রয়েছে ৪০০ বছরের পুরনো জমিদার বাড়িও। আবার ইছামতী নদীবক্ষে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার গা ঘেঁষে যেতে পারেন ইছামতী, কালিন্দী ও বিদ্যাধরী এই তিন নদীর মোহনায়।
কিন্তু সেই টাকির হোটেল নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ইছামতী নদীর চর দখল করে অবৈধভাবে গজিয়ে উঠছে বিলাসবহুল হোটেল, রিসর্ট প্রভৃতি। প্রশ্ন উঠছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিন্দুমাত্র না ভেবে কীভাবে টাকি পর্যটন কেন্দ্রে ইছামতী নদীর পাড়েই এভাবে বিলাসবহুল হোটেলের অনুমতি মিলল? নদীতে জোয়ার এলেই জোয়ারের জল হোটেলের দেওয়ালে প্রতিনিয়ত ধাক্কা মারে।
সূত্রের খবর, নিয়মানুযায়ী জোয়ারের জল নদীর কিনারায় যতদূর পর্যন্ত পৌঁছয় তা থেকে প্রায় ১৬ মিটার দূরে নির্মাণ করা যায়। অভিযোগ, কিন্তু টাকিতে সেই নিয়মকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে কার্যত নদীগর্ভেই তৈরি হয়েছে সুবিশাল হোটেল-রিসর্ট।
ক’দিন আগে টাকিতে ঘুরতে আসেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী তন্ময় বসু। গোটা এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি দেখে গিয়েই পরিবেশ দপ্তর, সেচদপ্তর, টাকি পুরসভা এবং বসিরহাট মহকুমা শাসকের দপ্তরে অভিযোগ জানান তিনি। অভিযোগ গিয়েছে বসিরহাট পুলিস জেলার পুলিস সুপার এবং হাসনাবাদ থানার ওসির কাছেও।
এনিয়ে তন্ময়বাবু বলেন, ‘ইছামতী নদীগর্ভ দখল করে তৈরি হয়েছে বিলাসবহুল হোটেল। ফলে যেকোনও সময় বড় বিপদ ঘটতে পারে। তাই জনস্বার্থে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের নজরদারির দাবি জানাচ্ছি।’
এনিয়ে টাকি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘এমন অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। এলে নিশ্চিতভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ - নিজস্ব চিত্র