


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘গণপরিবহণ নেই। রাস্তার অবস্থা বেহাল। সরকারি স্কুলে ছাত্র নেই। আর কত বলব?’— প্রচারে বেরিয়ে শাসকদলকেই দুষলেন বেহালা পশ্চিমের সিপিএম প্রার্থী নীহার ভক্ত। একইসঙ্গে দুর্নীতি নিয়েও তৃণমূলকে বিঁধলেন লালপার্টির এই প্রতিনিধি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বেহালা কলেজের কাছে প্রচারে নামেন নীহার। বিধানসভায় বামেরা যে শূন্য, তা প্রচারপর্বে জনসমাগম দেখে বোঝার উপায় নেই। কাজিপাড়া মোড়ে কোনো দোকান বা বাড়িতে ঢুঁ মারতে ছাড়েননি এই বাম প্রার্থী। জনসংযোগে নেমে তাঁর একটাই বার্তা— ‘বেহালার সার্বিক নাগরিক পরিষেবার উন্নয়ন।’
নীহারবাবু বলেন, ‘বেহালা থেকে সরকারি বাস সম্পূর্ণভাবে উঠে গিয়েছে। এল৭, এল৭এ, ১২ডি, এল৭বি, এস২৬ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শুধু বাস টার্মিনাসগুলিই রয়েছে। মানুষ চূড়ান্ত হয়রানি হচ্ছেন নিত্যদিন। একটু রাত হলেই দৌরাত্ম্য বাড়ছে অটোর। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মানুষকে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। একইসঙ্গে রাস্তাও খারাপ। ১২৭ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তা গাড়ি চলাচলের অযোগ্য। পর্ণশ্রী, বিজি প্রেস এলাকায় রাস্তার অবস্থা ভয়াবহ। বাইক নিয়ে চলাফেরা করা দায়। প্রার্থীর সুরে সুর মেলালেন স্থানীয় অনেকেই। কাজিপাড়ায় এক খাবারের দোকানি বললেন, ‘রাস্তার অবস্থা তো খারাপ। প্রতি বছর প্যাচওয়ার্ক হয়। তারপর ফের বর্ষা আসতে না আসতেই ভেঙে যায়।’ নাগরিক পরিষেবার পাশাপাশি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানকে এবারের ভোটে বড়ো ইস্যু হিসাবে হাতিয়ার করছে সিপিএম। বেহালা পশ্চিম বিধানসভা এলাকায় প্রাইমারি স্কুল অধিকাংশই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নীহারবাবু বলেন, ‘আমি যে বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলাম, সেই বছর সরশুনা উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৪৫৬ জন। ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৮২১ জন। বাসুদেব হাইস্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে।’ একই সুর বেহালা পূর্বের সিপিএম প্রার্থী ডঃ নিলয় মজুমদারের। তিনিও এলাকায় প্রচার শুরু করেছেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে বেহালা পূর্ব ও পশ্চিম দু’টি আসনেই তৃতীয় স্থান পেয়েছিল সিপিএম। এবার সেই স্থান পরিবর্তন হবে বলে নিশ্চিত বামেরা। দুই প্রান্তেরই বাম প্রার্থীর দাবি, ‘গতবার বেহালার নির্বাচনে প্রভাব ছিল তৃণমূলের ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী তথা প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। কিন্তু, পাঁচ বছরে অনেক জল গড়িয়ে গিয়েছে। বিধায়কের গায়ে ‘চোরের তকমা’ লেগেছে। মানুষ সবই দেখেছে। তাই এবার ভোটযুদ্ধে বেহালায় তৃণমূলকে টেক্কা দিতে তাল ঠুকছে লালপার্টির দুই প্রতিনিধি। নীহার ভক্ত বলেন, ‘রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল বিজেপি বেহালায় কোনো ফ্যাক্টর নয়’। আদতেই কি তাই? যদিও নির্বাচন ঘোষণার পর চারদিন কেটে গেলেও এখনও বেহালার একটি দেওয়ালেও রং-তুলিতে পদ্মফুল ‘ফোটেনি’। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সবেমাত্র বেহালার দুই কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। গেরুয়া পার্টি কবে পথে নামে, সেটাই এখন দেখার।
অন্যদিকে, এদিন সকালে শ্যামপুকুর কেন্দ্রের লালাবাগান এলাকায় জনসংযোগ সারেন তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা। বিকালে আহিরীটোলা দোলনা পার্ক থেকে মিছিল করে পুরোদমে প্রচার করেন তৃণমূলের এই ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী। এদিন যাদবপুর কেন্দ্রের ১০৫ এবং ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডে জনসংযোগ করেন ঘাসফুলের প্রার্থী দেবব্রত মজুমদার।