


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসএসকেএম হাসপাতালের আউটডোরের (ওপিডি) টিকিট জাল করে বিক্রি করার অভিযোগ উঠল। অনলাইনে টিকিট করে দেওয়ার নাম করে এই প্রতারণা চক্র চালাাচ্ছিল দালালরা। হাসপাতালের অভিযোগের ভিত্তিতে আসাদ আলি, মহম্মদ সাদিক ও বিহিদ আহমেদকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে ভবানীপুর থানার পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে একজনের হাসপাতালের বাইরে ফটোকপি করার দোকান রয়েছে। রোগীকে ভরতি করিয়ে দেওয়া, বেডের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি নিয়ে দালাল চক্র সক্রিয় এসএসকেএম হাসপাতালে। এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু ওপিডির টিকিট বিক্রি করার নাম করে প্রতারণার বিষয়টি সম্ভবত এই প্রথম। তদন্তে নেমে পুলিশ জেনেছে, এসএসকেএমের আউটডোরে রোগীকে দেখাতে গেলে এখন আধার কার্ড বাধ্যতামূলক। বহু রোগী আধার কার্ড ছাড়াই হাসপাতালে চলে আসেন। তাঁদের টার্গেট করে এই চক্র। হাসপাতালে ওপিডির টিকিট কাউন্টারের সামনে ঘুরে বেড়ায় জালিয়াতরা। আধার কার্ডহীন ব্যক্তিরা কাউন্টার থেকে টিকিট না পেলে তারা করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিত। এরপর রোগী বা তাঁর পরিজনদের হাসপাতালের বাইরে ওই ফটোকপির দোকানে নিয়ে যেত। সেখানে বসেই তৈরি হত ওপিডির জাল টিকিট। একেকটি টিকিটের জন্য নেওয়া হত তিরিশ থেকে চল্লিশ টাকা।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, তারা একটি সফটওয়্যার বানিয়েছিল, যার মাধ্যমে হাসপাতালের ওপিডির টিকিটের হুবহু নকল করা যায়। আধার কার্ডহীন ব্যক্তির টিকিটে অন্যের আধার কার্ডের নম্বর বসিয়ে দিত তারা। তদন্তকারীরা জেনেছেন, হাসপাতালে আসল ডেটাবেস থেকে তারা বিভিন্ন রোগীর তথ্য জোগাড় করত। এক্ষেত্রে ওই ডেটাবেস তাদের সফটওয়্যারে আপলোড করা হয়েছিল। আধার কার্ডহীন কেউ এলে খালি নাম, তারিখ ও বিভাগ বদলে টিকিট দিয়ে দিত প্রতারকরা। তবে হাসপাতালের অনলাইন টিকিটের যে সফটওয়্যার রয়েছে, সেখানে তারা অ্যাক্সেস পেয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এর পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত সুবিধা গ্রহণ করছে কি না, সেই বিষয়টিও জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।