


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বাংলা থেকে মহারাষ্ট্র। ঝাড়খণ্ড থেকে পাঞ্জাব। আগ্রাসী ‘অপারেশন লোটাসে’র মাধ্যমে বিরোধী দলকে ছত্রভঙ্গ করে এমপি-বিধায়কদের কাছে টানছে গেরুয়া শিবির। সেই ঝোড়ো মিশনের মধ্যেই বিজেপি আচমকা হতচকিত। কারণ, কর্ণাটকে এবার পদ্মের ঘরেই সিঁধ কেটেছে কংগ্রেস। দক্ষিণের এই রাজ্যে বিধান পরিষদের ভোটে অন্তত বিজেপির পাঁচজন এবং জেডিএসের ছ’জন বিধায়ক ‘ক্রস-ভোট’ করেছেন দলের হুইপ অমান্য করে। আর তারই জেরে বিজেপি-জেডিএস জোটের নাকের ডগায় জয়ী হয়ে গিয়েছেন কংগ্রেসের পাঁচজন বিধান পরিষদ প্রার্থী। বিজেপির অস্ত্রেই তাদের এভাবে ধরাশায়ী করার নেপথ্য কারিগরের নাম ডি কে শিবকুমার। কর্ণাটকে কংগ্রেস সরকারের নয়া মুখ্যমন্ত্রী। বহু বছর ধরেই তিনি হাতশিবিরের ক্রাইসিস ম্যানেজার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার কর্ণাটকের মসনদে আসীন হয়েছেন। আর ক্ষমতাসীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয়তাও প্রমাণ করতে শুরু করেছেন, যার প্রথম ধাক্কায় কুপোকাত বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। এই ঘটনায় গেরুয়া শিবির এতটাই ক্ষুব্ধ এবং শঙ্কিত যে, দলের সর্বভারতীয় সভাপতি স্বয়ং দিল্লিতে তলব করেছেন রাজ্য সভাপতি বি ওয়াই বিজয়েন্দ্রকে।
দেবেগৌড়ার দল জেডিএস বেশ কয়েক বছর ধরে বিজেপির জোটসঙ্গী। কর্ণাটক বিধানসভায় সংখ্যার নিরিখে বিধান পরিষদে তাদের একজন প্রার্থীর জেতার কথা। কিন্তু সেই প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। কারণ, জেডিএস এবং বিজেপি বিধায়কদের একাংশ গোপনে কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছেন। সেরাজ্যে বিধান পরিষদ ভোটে কংগ্রেসের পাওয়ার কথা সব মিলিয়ে ১৪০টি ভোট। কিন্তু কংগ্রেস পেয়েছে ১৫১। অর্থাৎ ১১টি অতিরিক্ত ভোট। আর তা এসেছে বিজেপি এবং জেডিএস থেকে। সেই খবর পেয়ে শুক্রবার কর্ণাটক ইউনিটকে কঠোর বার্তা পাঠিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। সাফ বলা হয়েছে, এই দলবিরোধী কাজ, বিশ্বাসঘাতকতা সহ্য করা হবে না। বিজয়েন্দ্রও বলেছেন, কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২৩ জুন তাঁকে দিল্লিতে আসতে বলা হয়েছে। একইভাবে বেঙ্গালুরুতে পাঠানো হবে রাজ্য পর্যবেক্ষকদের। বিজেপি বিধায়কদের উপর নজরদারি করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কারণ, গেরুয়া শিবির জানে যে, ডি কে শিবকুমারের কর্মপদ্ধতি অত্যন্ত আগ্রাসী। তাই কংগ্রেস একবার যখন বিজেপির ঘরে হানা দিয়েছে, তখন নিছক একটি বিধান পরিষদের ভোটে ক্রস ভোটিংয়েই ক্ষান্ত হবে না।
দেবেগৌড়ার দলের সুপ্রিমো তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কুমারস্বামী তো স্বীকার করেই নিয়েছেন যে, দলের বিধায়কদের একাংশ কংগ্রেসে চলে যেতে পারে। কর্ণাটকে ২০২৮ সালে হবে বিধানসভার ভোট। ২ বছর আগে সেখানে বিজেপির ঘরে ভাঙন ধরা নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের কাছে রীতিমতো বিপজ্জনক বার্তা। কারণ, গোটা দক্ষিণ ভারতে একমাত্র কর্ণাটকেই বিজেপির শক্তি সবথেকে বেশি। সেখানেও যদি দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে পুনরায় আর্যাবর্তের দলেই পরিণত হবে মোদি-শাহের পার্টি। ২০২৯ সালের প্রাক্কালে যা বিজেপির কাছে উদ্বেগজনক।