


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পাত্রীর ছবি দেখে পছন্দ হয়েছিল। ঘটকের কথায় ভরসা করে এই বিয়েতে রাজি হন দেগঙ্গার যুবক। নিয়ম মেনে মন্দিরে চার হাত এক হয়। সেই বিয়েতে ‘কন্যা’ সম্প্রদান করেছিলেন পাত্রীর ‘কাকা’। কিন্তু বিয়ের ফুল শুকাতে না শুকাতেই মাথায় হাত নববিবাহিত যুবকের! তিনি যাঁকে স্ত্রীর কাকা বলে এতদিন চিনতেন, তিনি আর কেউ নন, স্ত্রীর আসল স্বামী! বিয়েতে এমন বড়োসড়ো ‘মোচড়’ দেখে পুলিশের দরজায় হাজির হন যুবক। তারপর তদন্তে উঠে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্রের খবর, স্ত্রীকে কখনও ভাইঝি সাজিয়ে, কখনও নিজের মেয়ে সাজিয়ে বিভিন্ন যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেয় স্বামী! দু’-এক মাস ঘর করার পর শুরু হয় খেলা। ডিভোর্সের জন্য চাপ। নতুন শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা, গয়না হাতানোর পাশাপাশি ‘ক্ষতিপূরণ’ আদায়— এভাবেই জমে উঠেছিল মণ্ডল দম্পতির কারবার। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ভিত্তিতে দেগঙ্গার কলসুর থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে স্বামী রবীন মণ্ডল ও স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা মণ্ডলকে। তাদের রবিবার বারাসত আদালতে তোলা হলে পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
দেগঙ্গার কলসুরের বাসিন্দা জিৎ মণ্ডল (নাম পরিবর্তিত) বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছিলেন। সেই সময় এক ঘটকের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। ওই ঘটক প্রিয়াঙ্কার ছবি দেখান তাঁকে। তা দেখে পছন্দ হয় জিতের। ২ সেপ্টেম্বর দেগঙ্গার এক মন্দিরে ধুমধাম করে বিয়ে হয় তাঁদের। এই বিয়েতে প্রিয়াঙ্কার স্বামী রবীন মণ্ডল হাজির হয়েছিলেন মেয়ের কাকা সেজে। তিনি নিজে হাতেই ‘কন্যা সম্প্রদান’ করেন সেখানে। তারপর দু’দিন যেতে না যেতেই বদলে যায় গল্প। সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীর গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় জিতের। তিনি স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ও এলাকার বিশিষ্টদের বিষয়টি জানান। ‘নববধূ’ ও তাঁর ‘কাকা’ রবীনকে ডেকে পাঠানো হয়। শুরু হয় আলোচনা। অভিযোগ, তাঁদের কথায় বিস্তর অসঙ্গতি ধরা পড়ে। শেষমেশ নিরুপায় হয়ে শনিবার পুলিশের দ্বারস্থ হন জিৎ। তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে আসে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। গ্রেপ্তার করা হয় রবীন ও প্রিয়াঙ্কাকে।
পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, প্রিয়াঙ্কাকে কখনও ভাইঝি, কখনও মেয়ে পরিচয় দিয়ে বিয়ে দেয় রবীন। সর্বোচ্চ ছ’মাস সংসার করার পর বিভিন্ন অজুহাতে বিবাহ বিচ্ছেদ করতে বাধ্য করত রবীন। অভিযোগ, প্রতিটি ক্ষেত্রেই পাত্রপক্ষের কাছ থেকে ‘ক্ষতিপূরণ’ হিসাবে নেওয়া হয়েছে টাকা, সোনা-গয়না। তদন্তকারীদের জেরায় এই কৌশলের কথা স্বীকার করেছে রবীন। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে এমন আরও কয়েকটি ঘটনার তথ্য হাতে পেয়েছে। এভাবে কতজনকে ফাঁদে ফেলে কত টাকা-গয়না আত্মসাত করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ নিয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য চঞ্চল গাঁয়েন বলেন, বিষয়টি জেনে আমরা তো অবাক। তারা নাকি এর আগেও এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। দেগঙ্গা থানার পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, জোর করে টাকা আদায় ইত্যাদি অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটকের খোঁজ চলছে। -নিজস্ব চিত্র