


সংবাদদাতা, খাতড়া: মঙ্গলবার সাত সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতি। কিন্তু এরপরেই একে অপরকে এলোপাথাড়ি ধারালো অস্ত্রের কোপ। ঘটনার জেরে মৃত্যু হয় বছর বত্রিশের কবিতা সর্দারের। কবিতার স্বামী বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। তবে এই ঘটনায় এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানান খাতড়া থানার এক আধিকারিক। তবে অভিযোগ হলেই তদন্ত শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর খানেক আগে খাতড়ার গদারহার গ্রামের বাসিন্দা কবিতা সর্দারের সঙ্গে ছাতনার লক্ষ্ণণপুর গ্রামের বাসিন্দা ধনঞ্জয় সর্দারের বিয়ে হয়। ওই দম্পতির একটি মেয়েও রয়েছে। তবে গত দিন কুড়ি আগে থেকে কবিতা একা খাতড়ার হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করে। স্বামী ধনঞ্জয় কর্মসূত্রে বাইরে থাকতেন। সোমবার রাতে ধনঞ্জয় স্ত্রীর খাতড়ার ভাড়া বাড়িতে এসে থাকতে চাইলে, দু’জনের মধ্যে প্রচুর বচসা হয়। বচসার কথা জানতে পেরে কবিতার মা ও বাবা খাতড়ায় মেয়ের ভাড়া বাড়িতে ছুটে আসেন। তখন বচসা ছেড়ে ওই বাড়ি থেকে ধনঞ্জয় বেরিয়ে চলে যায়। এদিকে, মঙ্গলবার সকালের আগে কবিতার বাবা ও মা মেয়ের ভাড়া বাড়ি থেকে নিজেদের বাড়ি চলে গেলে, তখন ফের কবিতার ভাড়া বাড়িতে যায় ধনঞ্জয়। ফের দম্পতির মধ্যে শুরু হয় বচসা। পরে বচসা শেষে হাতাহাতি এবং একে অপরকে বারে বারে ধারালো অস্ত্রের কোপ মারতে থাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে স্ত্রী কবিতা। বাড়ির বাইরে ধনঞ্জয়ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পরে পুলিশ ওই ভাড়া বাড়ির মালিকের থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পৌঁছায়। দু’জনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে খাতড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। দু’জনকেই চিকিৎসার জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় কবিতা সর্দারের। অন্যদিকে, মেডিকেলে ধনঞ্জয় সর্দার চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। কবিতার মা বালিকা সর্দার বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলছিল। সেই কারণে মেয়েকে খাতড়ার ওই ভাড়া বাড়িতে রেখেছিলাম। সোমবার সন্ধ্যায় ওই ভাড়াবাড়িতে জামাই থাকব বলে এসেছিল। মেয়ে তখন ওকে তাড়িয়ে দেয়। আমি ওর বাবাকে নিয়ে রাতেও কবিতার সঙ্গে ছিলাম। মঙ্গলবার ভোরে আমরা বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরেই ধনঞ্জয় ফের ওই বাড়িতে এসে ঝামেলা শুরু করে। ও আমার মেয়েকে মেরেছে।
অন্যদিকে, খাতড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ধনঞ্জয় সর্দার বলেন, কবিতাই আগে আমাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে। তারপর আমি ওর হাত থেকে ওই ধারালো অস্ত্র কেড়ে নিয়ে ওটা দিয়েই রাগের মাথায় মারধর করি।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলেই পুরো ঘটনার তদন্ত হবে।