


শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: ‘রাম আমাদের বন্ধু নয়’— এই স্লোগানেই রক্তক্ষরণ রোখার চেষ্টা করছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সিপিএম। যার জন্য ‘আগে রাম, পরে বাম’ স্লোগানের প্রবক্তা নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করেছে দল। সমবায় ভোটে বিজেপির সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগে এই জেলায় ২৭ জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে সিপিএম। সাসপেন্ড করা হয়েছে আরও ছ’ জনকে। বিজেপির সঙ্গে মাখামাখি করা নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতেই বিজেপিতে পা বাড়ানো অনেকে সতর্ক হয়ে গিয়েছেন। পার্টিতে ঐক্যের চেহারা ফিরেছে। বেড়েছে পার্টি সদস্যও। তাই এবার বেশ সংঘবদ্ধ ভাবে ভোটে লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছে বামেরা। সোমবার বামেদের পক্ষ থেকে পূর্ব মেদিনীপুরে ১৬টির আসনের মধ্যে আটটির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২১ সালের তুলনায় এবার সিপিএম অনেকটাই ঘর গুছিয়ে নামতে চলেছে।
সিপিএমের জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি বলেন, সমবায় ভোটে বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাত করার কারণে আমরা এক বছরে ২৭ জন নেতাকে বহিষ্কার করেছি। এছাড়া ছ’ জন নেতাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁদের পুনরায় এজি মেম্বারশিপ নিয়ে পরবর্তীতে পার্টি মেম্বারশিপ পেতে হবে। আমরা কর্মীদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে, ‘রাম তোমার বন্ধু নয়।’ তৃণমূলের চেয়ে আরও খারাপ বিজেপি। এবার ভোটে আমরা প্রাসঙ্গিক শক্তি হিসেবে উঠে আসব।
জানা গিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসকে টাইট দিতে এগরা, মারিশদা, নন্দকুমার, মহিষাদল, কাঁকটিয়া ও পটাশপুর প্রভৃতি এলাকায় বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাত করেছিলেন সিপিএম নেতাদের একটা বড় অংশ। তারপর অনেকটা ‘ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো’-র মতোই বিজেপির হাতে বোর্ড তুলে দিয়ে তাঁরা গুরুত্বহীন হয়ে পড়েন। এ ধরনের খবর আসার পরই পার্টিতে অন্তর্তদন্ত শুরু হয়। বিজেপির সঙ্গে গোপন সমঝোতা করার অভিযোগে ২৭ জনকে ধারাবাহিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে অন্যদেরও বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, কোনো অবস্থায় বিজেপির সঙ্গে আঁতাত নয়। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের সময়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সিপিএমের এরিয়া কমিটির সংখ্যা ছিল ৬৪। মোট পার্টি সদস্য ৭ হাজার ৭৮৬ জন। কিন্তু, এই মুহূর্তে এই জেলায় সিপিএমের এরিয়া কমিটির সংখ্যা ৮১টি। পার্টি সদস্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪৫৮ জন। মূল্যবৃদ্ধি ও বেসরকারিকরণ থেকে শুরু করে হলদিয়ায় শ্রমিকদের স্বার্থে লড়াই এবং সাম্প্রতিক সময়ে এসআইআর নিয়ে সিপিএমের ধারাবাহিক আন্দোলন সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে। যে কারণে এবার সিপিএম বেশ ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী হয়ে ভোটে লড়াই করতে চলেছে। ভোটের মুখে মহিলাদের সংঘবদ্ধ করার লক্ষ্যে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক তমলুক আসবেন। প্রত্যেক এরিয়া কমিটি থেকে মহিলা নেত্রীদের উপস্থিতিতে বৈঠক করবেন। সেখানে খেটে খাওয়া সাধারণ মহিলাদের কীভাবে ঐক্যবদ্ধ করে ভোটের লড়াইকে আরও মজুবত করা যায় তা নিয়ে ক্লাস নেবেন। এজন্য সোমবারই প্রত্যেক এরিয়া কমিটিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বামেরা শক্তি বাড়ালে অনেক সময়ে সমীকরণ বদলে যায়। নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের আমদাবাদ সমবায় সমিতির নির্বাচন তার জ্বলন্ত উদাহরণ। ওই সমবায়ে তৃণমূল, বিজেপি এবং সিপিএম আলাদাভাবে ১২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। বামেদের ভোট পৃথক হতেই পদ্মদুর্গে জয় হাশিল করে তৃণমূল। আসন্ন বিধানসভা ভোটেও বেশ কয়েকটি জায়গায় সিপিএম পূর্ণ শক্তিতে লড়াইয়ে নামতে চলেছে। এর ফলে লড়াই বেশ জমে উঠবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।