


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পে বুথে বুথে দেওয়া ১০ লক্ষ টাকার হিসেব বিজেপিকে দিতে হবে, এই দাবি তুলে মঙ্গলবার বাঁকুড়া শহরে মিছিল করল সিপিএমে। মিছিল শেষে সিপিএমের শহর পশ্চিম এরিয়া কমিটির তরফে বাঁকুড়া পুরসভার প্রশাসকের কাছে একাধিক দাবিতে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়। মিছিল শেষে সিপিএম নেতৃত্ব তৃণমূল আমলের আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান প্রকল্প নিয়ে বিস্তর অভিযোগ তোলা হয়। প্রকল্পের দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে বলে লালপার্টির নেতারা বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকারের বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছেন।
সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য অভয় মুখোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূলের দুর্নীতি খুঁড়ে বের করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে তৃণমূলের বড় নেতারা বিজেপি হয়ে গিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। চুনোপুঁটি কিছু নেতার উপর ডিম ছুঁড়ে বিজেপি প্রতিবাদ দেখাচ্ছে। ওয়ার্ড পিছু ১০ লক্ষ টাকা খরচের হিসেব আগের সরকার দিতে পারেনি। বিজেপি সরকার হিসেব দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব। তিনি আরও বলেন, বাঁকুড়া পুরসভায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। নাগরিক পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিজেপি সরকার বিধায়ককে দিয়ে পুরসভা চালাতে চাইছে। এমন অগণতান্ত্রিক কাজ আগে দেখা যায়নি। এসবের বিরুদ্ধেও আমরা সরব হয়েছি।
বাঁকুড়ার বিধায়ক তথা পুরসভার অন্যতম চালিকাশক্তি নীলাদ্রিশেখর দানা বলেন, সরকারি প্রকল্পের হিসেব চাওয়ার অধিকার সাধারণ মানুষ তথা যে কোনো রাজনৈতিক দলেরই রয়েছে। তবে সিপিএম যেন ৩৪ বছরের দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের কথা ভুলে না যায়। তাছাড়া ওরা তো সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে তৃণমূলের জোট সঙ্গী ছিল। ফলে ওরা তৃণমূলের কাছেই সেসময় হিসেব নিতে পারত। আমাদের আমলে মানুষ অনেক ভালো পরিষেবা পাচ্ছে। বাঁকুড়া পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল চেয়ারম্যান অলকা সেন মজুমদার বলেন, সাধারণ মানুষের দাবির ভিত্তিতে আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান প্রকল্প রূপায়িত হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া প্রশাসনের আধিকারিকদের নজরদারিতে চলেছে। পোর্টালে গিয়ে যে কেউ প্রকল্পের খুঁটিনাটি দেখে নিতে পারেন।
উল্লেখ্য, গত বিধানসভা ভোটের ছ’ মাস আগে পূর্বতন তৃণমূল সরকার প্রতিটি বুথে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করে। ওই টাকায় বুথে বুথে নিকাশি নালা, রাস্তা সহ অন্যান্য নির্মাণ কাজ হয়। কিছু জায়গায় এ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এক জায়গার নাম করে অন্যত্র কাজ হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বাঁকুড়া শহরেও কিছু জায়গায় বোর্ড বসানো হলেও কাজ হয়নি বলে বাসিন্দারা সোচ্চার হন। সেই বিষয়টি সামনে রেখে সিপিএম নিজেদের সংগঠনের ‘মরা গাঙে বান’ আনতে উঠেপড়ে লেগেছে।