


সংবাদদাতা, খড়্গপুর: ভরদুপুরে ত্রিপল পোড়ানো হচ্ছে খড়গপুর গ্রামীণের তৃণমূল বিধায়ক দীনেন রায়ের বাড়িতে। খবর পেয়েই দল বেঁধে ছুটে গেলেন এলাকার মানুষ। কপাল খুললো অনেকেরই। এতদিন যে ত্রিপল চেয়েও মেলেনি, এদিন না চাইতেও হাতে হাতে পেয়ে গেলেন! এলাকার বহু মহিলাই ত্রিপল নিয়ে বাড়ি ফিরলেন। আর যাঁরা ত্রিপল পেলেন না, তাঁরা চোখের সামনে সরকারি ত্রাণের ত্রিপল পুড়তে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন। পরে সেখানে স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা পৌঁছেও বিক্ষোভ দেখান। আজ, মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে খড়্গপুর গ্রামীণ বিধানসভার অধীন মেদিনীপুর সদর ব্লকের আবাস এলাকায়। যদিও ত্রিপল পোড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল বিধায়ক দীনেন রায়। তিনি বলেন, 'ওগুলো ত্রিপল নয়। ত্রিপলের কভার। গোডাউনে জমে গিয়ে সাপ-খোপের উপদ্রব বাড়ছিল। তাই পোড়ানো হয়েছে। ত্রাণের ত্রিপল আমার বিধানসভার মানুষকে আগেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম দিনের সঙ্গী দীনেন রায় এবার ভোটে জিতে ঋতব্রত-শিবিরে যোগ দিয়েছেন। এদিন দুপুরে তাঁর বাড়ির গোডাউনেই সরকারি ত্রাণের ত্রিপল পোড়ানো হয় বলে অভিযোগ। এলাকাবাসী আগুন জ্বলতে দেখে ছুটে যান। তখনও অবধি যে সমস্ত ত্রিপল পোড়ানো হয়নি, সেগুলি দলে দলে নিয়ে যান এলাকার মহিলারা। অনেকেই অবশ্য খালি হাতে ফিরে যান। ঘটনাকে ঘিরে উত্তাল হয় এলাকা। আল্পনা দাস নামে এক মহিলা বলেন, 'খবর পেয়েই ছুটে এসেছিলাম। তবে আমি পৌঁছনোর আগেই সব ত্রিপল পুড়িয়ে দিয়েছে। আগেও পাইনি, আজকেও পেলাম না।' সঞ্জয় দাস, সুনীল সিংদের অভিযোগ, 'এর আগে আমাদের প্রয়োজনের সময়ে ত্রিপল চাইতে গেলেও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন ভয় পেয়ে জমে থাকা সব ত্রিপল পুড়িয়ে দিলেন বিধায়ক।' যদিও, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বিধায়ক দীনেন রায় বলেন, 'সবাইকেই আমি ত্রিপল দিয়েছি। আর কোনও ত্রিপল নেই। পরিত্যক্ত কিছু জিনিসপত্র পোড়ানো হয়েছে।' অন্যদিকে, বিজেপির ওই এলাকার মণ্ডলের সহ-সভাপতি বাসুদেব মণ্ডল বলেন, 'বিধায়ক মিথ্যা কথা বলছেন। আমাদের কাছে ত্রিপল পোড়ানোর ভিডিও আছে। বছরের পর বছর অসহায় মানুষের সাথে প্রতারণা করেছেন এঁরা। আমরা ঘটনার উপযুক্ত তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।'