


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শান্ত শ্যামা রঙের পাশাপাশি এবার কুচকুচে কালো রঙের দক্ষিণা কালীর চাহিদাই বেশি কুমোরটুলিতে। মৃৎশিল্পীদের একাংশের বক্তব্য, কালো রঙের দক্ষিণা কালীর রূপ কিছুটা ভয়ার্ত। আর শ্যামা মায়ের রূপ শান্ত। গত বছর পটুয়াপাড়ায় কালো রঙের দক্ষিণা কালীর বরাত মিলেছিল চার হাজারের উপর। এবার সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ছ’হাজারের কাছাকাছি।
শিল্পীদের কথায়, আসলে একেক বছর একেক রকম ট্রেন্ড দেখা যায়। কুমোরটুলির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ঘুরে দেখা গেল, বিভিন্ন মৃৎশিল্পীর ঘরে শ্যামা রঙের পাশাপাশি কালো রঙের দক্ষিণা কালী তৈরিতে মগ্ন শিল্পীরা। রবীন্দ্র সরণি, কুমোরটুলি স্ট্রিট, বনমালি সরকার স্ট্রিট সহ পটুয়াপাড়ার বিভিন্ন শিল্পীর ঘরে ছোট‑বড়‑মাঝারি সাইজের কালো রঙের দক্ষিণা কালী তৈরি হচ্ছে। বেশিরভাগ মূর্তিতেই রঙের কাজ প্রায় শেষ। কালীর গলায় ঝোলা নরমুণ্ডতে রঙের কাজ অবশ্য বাকি রয়েছে। কোথাও আবার মহাদেবের মূর্তিতে চলছে রং করার কাজ।
শিল্পী রাজা পাল বলেন, ‘এবার শ্যামা রঙের মায়ের মূর্তির বরাত পেয়েছেন ১৬টি। কালো রঙের দক্ষিণা কালীর বরাত মিলেছে ২২টি। কৃষ্ণকালীর বরাত পেয়েছেন মাত্র একটি। আর বরাতের বাইরে অতিরিক্ত ২০টির মধ্যে ১৫টি কালো রঙের দক্ষিণা কালী ও পাঁচটি শ্যামা কালী তৈরি করেছি। শিল্পী সমর পাল বলেন, মূলত বাড়ি ও মঠ‑মন্দিরে শ্যামা রঙের মায়ের মূর্তি পুজো হয়ে থাকে। আর বিভিন্ন মণ্ডপে কালো রঙের দক্ষিণা কালীর আরাধনা হয়। তবে কয়েকজন শিল্পী বলেন, হাতেগোনা মাত্র দু’-পাঁচটি শ্মশান কালীর বরাত মেলে। তবে এখন এই সংখ্যা কমে আসছে। কারণ কোন কোনও শ্মশানে কালী মূর্তি তৈরি হয়ে থাকে।
কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সংগঠনের কর্মকর্তাদের একাংশের বক্তব্য, এবার কালী প্রতিমার বরাত ভালো মিলেছে। প্রতিটি শিল্পী কম বেশি ভালো কালী মূর্তির বরাত পেয়েছেন। শিল্পীরাও খুশি। অনেকেই দেনা করে প্রতিমা গড়ছেন। ভালো বাজার পাওয়ায় মহাজনদের ধার‑দেনা কিছুটা হলেও পরিশোধ করা সম্ভব হবে। শিল্পী বরুণ পাল বলেন, ইতিমধ্যেই চারটি কালো রঙের দক্ষিণা কালী কলকাতার বাইরে গিয়েছে। এখন ১৭টি প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। হাতে সময় খুবই কম। তাই জোরকদমে চলছে কাজ। বুধবার অলিগলি ঘুরে দেখা গেল, কালী প্রতিমার সঙ্গেই চলছে কঙ্কাল, ডাকিনী‑যোগিনী, মাটির নরমুণ্ড তৈরির কাজ। সব মিলিয়ে পটুয়াপাড়া এখন হয়ে উঠেছে ‘কালীক্ষেত্র’।