


বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: তাঁর মনের ভিতর সব সময় নতুন কিছু করার চিন্তা ঘুরপাক খায়। আর সেই চিন্তা সঙ্গে সঙ্গে পকেটে থাকা নোটবুকে লিখে রাখেন। বিষ্ণুপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভিতর রাস্তা, পানীয় জল থেকে শুরু করে সরকারি অনেক প্রকল্পের রূপায়ণ ঘটিয়েছেন। কিন্তু তারপরও তিনি মনে করেন, ভোটারদের জন্য এখনও আরও অনেক কিছু করার প্রয়োজন আছে। তিনি হলেন বিষ্ণুপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী দিলীপ মণ্ডল। ধারাবাহিক এই কর্মযজ্ঞের ভিতর থাকার কারণে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান থেকে ধীরে ধীরে তিনি পৌঁছে গিয়েছেন রাজ্যের পরিবহণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী পদে।
শুক্রবার বিকাল পাঁচটা। ঠাকুরপুকুর মহেশতলা ব্লকের শিবরামপুর কাষ্টডাঙা রোডে বটতলা জুড়ে তৃণমূলের পতাকা হাতে কর্মীরা। মহিলাদের হাতে গুচ্ছ বেলুন। কমলা, সাদা, নীল রঙের। সকলে রোড শোয়ে শামিল হওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে। একটু তফাতে বটতলা শিবমন্দিরের কাছে ব্যান্ড, তাসা বাজছে। সানাইয়ের ফুঁ দিয়েছেন কেউ। ছোট ই-রিকশ নিয়ে মাইকে হাঁকছেন জনৈক তৃণমূল কর্মী– আপনারা দ্রুত চলে আসুন। আমাদের প্রার্থী দিলীপ মণ্ডল, বিষ্ণুপুরের উন্নয়নের রূপকার, কিছু সময়ের মধ্যেই আসছেন। চারপাশ গরমে তেতে রয়েছে। বাতাস নেই। যাও ছিটেফোঁটা গায়ে লাগছে, তা গরম হলকা। দমবন্ধ এই আবহাওয়ার ভিতরেই গাড়ি থেকে নামলেন দিলীপ মণ্ডল। দরদর করে ঘামছেন। কিন্তু চোখেমুখে কোনও বিকার নেই। মহিলা স্বেচ্ছাসেবীরা থালায় মালা ও ফুল নিয়ে দিলীপবাবুকে অভিনন্দন জানাতে দৌড়ে গেলেন। আরও অনেকে ভিড় করলেন। কিন্তু দিলীপবাবু হাত নেড়ে ইশারায় বললেন, রোড শো শুরুর আগে শিবমন্দিরে পুজো দিয়ে আশীর্বাদ নিতে হবে। তিনি সোজা ঢুকে গেলেন মন্দিরে। তাঁর সঙ্গে গেলেন সঙ্গী তথা ব্লক সভাপতি ও নির্বাচনি এজেন্ট বিপ্লব মণ্ডল। সেখানে পুরোহিতের পরামর্শ মেনে শিব ও অন্য দেবমূর্তির গলায় মালা দিয়ে প্রণাম করলেন।
মন্দির থেকে বেরতেই মহিলারা মালা পরিয়ে এবং ফুল ছুঁড়ে অভিনন্দন জানালেন প্রার্থীকে। তিনি হাসতে হাসতে ধীর পায়ে উঠে গেলেন সামনে দাঁড়ানো চারপাশ ঢাকা একটি ই রিকশয়। এর মধ্যেই সেই ই রিকশর সামনে এবং পিছনে বিশাল জনতার ঢল নেমেছে। গান হচ্ছে, ‘কারার ওই লৌহকপাট, ভেঙে ফেল কররে লোপাট’। তার তালে তাল মিলিয়ে সকলে চলেছেন। গ্রামীণ এলাকার রাস্তা সব জায়গায় প্রশস্ত নয়। ফলে ই রিকশ মাঝেমাঝে হেলদুলে যাচ্ছে। উভয় দিকে কোথাও কচু ও খাগড়ার বন। কোথাও রাস্তার ধারে বড় পুকুর। আম, জাম, কাঠাল, লিচু, চালতা গাছের সারি। উঁকি দিচ্ছে নারকেল আর সুপারির ডালপালা।
দিলীপবাবু যেতে যেতে এই সব দৃশ্য দেখে বললেন, বিষ্ণুপুরের সবুজায়ন আমার আগামী দিনের স্বপ্ন। অনেক জায়গাতে করেছি। আগামী দিনে এখানে একটি বড় হাসপাতাল, স্টেডিয়াম, কলেজ করার ইচ্ছা রয়েছে। কথা বলার ফাঁকে রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের দিকে হাত তুলে নমস্কার করছেন। কোথাও কোথাও ফুল ছুঁড়ে দিচ্ছেন। যেখানে যেখানে শিশুরা দাঁড়িয়েছিল, সেখানে লোক পাঠিয়ে তাদের হাতে লজেন্স দিয়ে আসা হচ্ছে। শিশুরাও তা পেয়ে নেচে উঠছে। তা দেখে হাসির ঝিলিক প্রার্থীর চোখে মুখে। সোনামুখী মেন রোড, জগন্নাথপুর প্লাজা, শিবরামপুর বিবেকানন্দ পার্ক হয়ে ঘরামিপাড়াতে এসে ঠিক সন্ধ্যা ছ’টার সময় শেষ হল রোড শো। সেখানেই কথা দিলীপবাবু এবং ব্লক সভাপতি বিপ্লব মণ্ডল বললেন, টিএম ব্লকের নতুন অফিস, চট্টা মেন খাল সংস্কার, রসপুঞ্জ পঞ্চায়েতের ভূমি সংস্কার অফিসকে ঠাকুরপুকুরের সঙ্গে যুক্ত করা আমাদের অঙ্গীকার।