


সংবাদদাতা, বোলপুর: ভোটের জন্য বোলপুর শহর ও সংলগ্ন এলাকার একাধিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ভোট শেষে বাহিনী চলে যাওয়ার পর ওই স্কুলগুলিতে উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। সিয়ান ইউসুফ হাইস্কুলে দু’টি সাবমার্সিবল পাম্প এবং একাধিক ট্যাপকল বিকল হয়ে পড়েছে। পারুলডাঙা শিক্ষানিকেতনে বেঞ্চ ভাঙা, ফ্যান খারাপের পাশাপাশি সাবমার্সিবল নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। আবার শ্রীনন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ে বেঞ্চ ভাঙার পাশাপাশি স্কুল প্রাঙ্গণে যত্রতত্র আবর্জনা ছড়িয়ে থাকার অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু স্কুলেই বেঞ্চ-ডেস্ক ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে, শ্রেণিকক্ষের দরজা-জানালার ক্ষতি হয়েছে। কোথাও পানীয় জলের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এছাড়াও স্কুল প্রাঙ্গণ ও শ্রেণিকক্ষের ভিতরে প্লাস্টিক, খাবারের উচ্ছিষ্ট ও নানা ধরনের বর্জ্য ছড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। শুধু বোলপুর নয়, একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে নানুর ও লাভপুর এলাকার কয়েকটি স্কুলেও। সেখানেও কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার পর স্কুলের পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা ও স্কুল কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকারা জানিয়েছেন, এই সমস্যা নতুন নয়। প্রতি নির্বাচনেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকার পর একই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। এবারের ভোটের আগেই প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানানো হয়েছিল, যাতে স্কুলের সম্পত্তি রক্ষা করা হয়। ভোট শেষে দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মেরামতির ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু, এবার সেই আবেদন কার্যত মানা হয়নি। পারুলডাঙা শিক্ষানিকেতন স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত দাস বলেন, আমরা আগেই প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম স্কুলের বেঞ্চ, টেবিল, লাইট, পানীয় জলের ব্যবস্থা এগুলি যাতে অক্ষত থাকে। কিন্তু, ভোট শেষে এসে দেখি, একাধিক জিনিস ভাঙা। আরও এক শিক্ষিকা জানান, শুধু ভাঙচুর নয়, স্কুলের পরিবেশও একেবারে নোংরা করে চলে গিয়েছে। এই অবস্থায় ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ক্লাস করা অসম্ভব। তাই অনেক স্কুলেই পঠন-পাঠন শুরু করা যায়নি। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার জেলায় ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তারপরেও শনিবার পর্যন্ত অনেক স্কুলে নিয়মিত ক্লাস শুরু করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে পড়ুয়াদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, ভোট গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু তার জন্য যদি স্কুলের এই ধরনের ক্ষতি হয়, তাহলে তার দায় কে নেবে? পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়েই আমরা চিন্তিত। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে প্রশাসনের কাছে পাঠানো হচ্ছে। প্রশাসন অবিলম্বে মেরামতির জন্য আর্থিক সহায়তা দিক। প্রশাসনের তরফে বোলপুরে মহকুমা শাসক অনিমেষকান্তি মান্না বলেন, পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।