


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পীরের মাজারে নিত্যদিনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেন দাস পরিবারের সদস্যরা। একদিন বা দু’দিন নয়, বছরের পর বছর ভদ্রেশ্বরের পালপাড়ার সৈয়দ শাহ পীরের মাজারের তত্ত্বাবধান করছেন দাস পরিবারের বংশধররা। দুপুরে নিয়মিত সেখানে পুজো দেন ওই পরিবারের কোনও না কোনও সদস্য। মাজারে আসা লোকজনের তত্ত্বাবধান থেকে চাদর চড়ানোর কাজেও সহায়তা করেন তাঁরা। সম্প্রীতির বাংলায় ওই আচার বহু বছর ধরে চলে আসছে।
জনশ্রুতি, প্রায় ১২০ বছর আগে জল আর জঙ্গলে ভরা ছিল ভদ্রেশ্বরের ওই এলাকা। কিছু বসতও ছিল। সেই সময় মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা এখানে একাধিক মাজার তৈরি করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকা থেকে মুসলিম মহল্লা অন্যত্র সরে গিয়েছে। কিন্তু রয়ে গিয়েছে মাজার। ১৯৬৭ সালে সৈয়দ শাহ পীরের মাজারের কাছেই বসত শুরু করেন শ্রীদামচন্দ্র দাস। সেই সময় থেকে দাস পরিবার ওই মাজারের রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে। আর মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও দাস পরিবারের তত্ত্বাবধানে মাজারে যাবতীয় আচার পালন করে আসছেন। দাস পরিবারের উত্তরসূরি তথা গৃহবধূ শুক্লা দাস বলেন, শাহ পীরের মাজার আমার শ্বশুরমশাই দেখাশোনা করতেন। তাঁরই নির্দেশে আমরা মাজার রক্ষা করে আসছি। প্রতিনিয়ত নিয়ম মেনে পীরের সেবা করা হয়। আমরা নিত্যদিন পুজোপাঠের মতো শ্রদ্ধার সঙ্গে এই কর্তব্য পালন করি। স্থানীয় একটি মাজারে থাকেন মৌলবী মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, পীরের দরগা সকলের। সেখানে ভেদাভেদ নেই। আমরা সকলে মিলেই একাধিক পীরের মাজার দেখাশোনা করি। সেখানে হিন্দুরাও আছেন, মুসলিমরা তো আছেনই। ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী বলেন, ধর্মীয় ভেদাভেদ নয়, মানুষে মানুষে সংস্কৃতির বন্ধনই বাংলার রীতি। তা বাংলার মানুষকে শেখাতে হয় না। ভদ্রেশ্বরও সেই প্রমাণই বহন করে আসছে। নিজস্ব চিত্র