


ইসলামবাদ: পাকিস্তানে ফের ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণ। শুক্রবার দুপুরে প্রার্থনা চলাকালীন এই ঘটনা ঘটেছে ইসলামাবাদের শাহজাদে অবস্থিত একটি শিয়া ইমামবাড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের জেরে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬৯ জনের। জখম হয়েছেন আরও ১৬৯ জন। তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। ফলে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাচক্রে, মাত্র তিন মাস আগেই ইসলামাবাদ দায়রা আদালত ভবন আত্মঘাতী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল। গত ১১ নভেম্বরের ওই ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। জখম হয়েছিলেন ৩০ জনেরও বেশি। এবার শিয়া ইমামবাড়ায় হামলার ঘটনা ঘটল। এদিন বিস্ফোরণের পর শোকপ্রকাশ করে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
পাক সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, তরলাই ইমামবাড়ার মূল গেটে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেকে উড়িয়ে দিয়েছে হামলাকারী ব্যক্তি। নিরাপত্তা আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে দ্য টাইমস অব ইসলামাবাদ জানিয়েছে, কর্তব্যরত রক্ষীরা প্রবেশদ্বারে পথ আটকানোয় সেখানেই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেয় সে। ইমামবাড়ার ভিতরের হলে তখন প্রার্থনা চলছিল। সেখানে ঢুকতে না পারলেও মূল গেটে সেই বিস্ফোরণ এতটাই জোরালো ছিল, তার অভিঘাতে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। প্রকাশ্যে আসা বিভিন্ন ভিডিয়ো ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বিস্ফোরণের ধাক্কায় মূল গেটের কাঠামো সহ ওই ইমামবাড়ায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে সেইসব ধ্বংসাবশেষ, সেই সঙ্গে নিহতদের দেহাংশও। বিস্ফোরণের কান ফাটা শব্দে আশপাশের ঘরবাড়ির জানালার কাচ ভেঙে পড়েছে। বিস্ফোরণের দায় কোনও সংগঠন স্বীকার করেনি। তবে পুলিশ সূত্রে দাবি, ওই আত্মঘাতী হামলাকারী বিদেশি নাগরিক। ফিতনা আল খারাজি বা তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে তার যোগ ছিল। আত্মঘাতী বিস্ফোরণের খবর সামনে আসার পর অবস্থা সামলাতে হাসপাতালগুলিতে আপৎকালীন পরিস্থিতি ঘোষণা করেন ইসলামাবাদ পুলিশের আইজি। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারের কাজ। ছবি: পিটিআই।