


নয়াদিল্লি: রাজধানীর বুকে ‘হোয়াইট কলার টেরর’ মডিউলের ক্ষত এখনও মেটেনি। তার মধ্যেই ফের দিল্লিতে গ্রেপ্তার পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের মদতপুষ্ট সাত জঙ্গি। মঙ্গলবার পাকিস্তানের এই আন্তর্জাতিক জঙ্গি মডিউলের একটা বড়ো চক্র ফাঁস করল দিল্লি পুলিশ। ধৃতরা প্রত্যেকেই পাকিস্তানের গ্যাংস্টার-জঙ্গি শাহজাদ ভাট্টি ও আজমল গুজ্জর গোষ্ঠীর সদস্য।
সূত্রের খবর, দিল্লি-এনসিআরে জঙ্গি হামলার ছক কষছিল অভিযুক্তরা। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন জায়গায় অবৈধভাবে অস্ত্র ও মাদক পাচারেও জড়িত ছিল তারা। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, পুরো চক্রটাই নিয়ন্ত্রিত হত পাকিস্তান থেকে। জঙ্গি হামলার জন্য টার্গেট খোঁজা, সেই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করার পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্র পাচারের দায়িত্ব ছিল ধৃত সাতজনের উপর। মূলত পাঞ্জাব হয়ে মাদক ও অস্ত্র আনা হত এবং তা পাঠানো হত দিল্লি-এনসিআরের বিভিন্ন জায়গায়। জঙ্গি হামলার জন্য সাত অপারেটরকে জনবহুল এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থল ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছিল শাহজাদ ভাট্টি ও আজমল গুজ্জর। কিন্তু সঠিক সময়ে অপারেশন চালানোর ফলে বড়োসড়ো জঙ্গি হামলার ছক ভেস্তে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এদিকে, যৌথ অভিযান চালিয়ে ‘লোন উলফ’ জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা ভেস্তে দিল বিহার ও মধ্যপ্রদেশের জঙ্গি দমন শাখা। ঘটনায় মৌলানা ইজার উল হক নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত সে। ধৃতের ৭২ ঘণ্টার ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। তাকে মধ্যপ্রদেশে নিয়ে এসে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে এটিএস। মৌলানার পাশাপাশি আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার বিহারের মধুবনীর প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে মৌলানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সূত্রের খবর, স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করত সে। তার আড়ালেই চলত ‘লোন উলফ’ তৈরির কাজ। তদন্তকারীদের সন্দেহ, একটি নির্দিষ্ট দলের ‘আমির’ ছিল মৌলানা। দলের মূল কাজ ছিল বিভিন্ন রাজ্যের যুবকদের চিহ্নিত করে প্রশিক্ষণ দেওয়া। গ্রাম থেকেই বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত মৌলানা।