


নয়াদিল্লি, ৩ নভেম্বর: দিল্লিতে শীতকালীন দূষণ মোকাবিলা করতে রাজধানীজুড়ে জারি করা হয়েছে নান বিধি নিষেধ। ইতিমধ্যে তা গত সোমবার থেকেই লাগু হয়েছে। কোনো বিধি নিষেধ লঙ্ঘন করলেই চলছে পুলিশের ধরপাকড়, মোটা টাকার জরিমানা। সেই চিত্র গতকালই উঠে এসেছে নানন সংবাদ মাধ্যম সূত্রে। কিন্তু এতসব কড়া নিয়ম কানুনকেও যেন বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে দিল্লির ভয়াবহ দূষণ। দীপাবলির আগেই দূষণের কালো চাদরে ঢাকল রাজধানী। সকাল হতেই ঘন ধোঁয়াশায় কার্যত ঢেকে গেল দিল্লির আকাশ। দ্রুত নামতে শুরু করেছে বাতাসের গুণগত মান। মঙ্গলবার সকাল ৭টা নাগাদ দিল্লির গড় বায়ু গুণমান সূচক পৌঁছল ৩৩১-এ। যা ‘অত্যন্ত খারাপ’ এর পর্যায়ে পড়ে। উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে দিল্লির আটটি এলাকার পরিস্থিতি। সেখানে বায়ু দূষণের মাত্রা ৪০০ পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছে। অর্থাৎ এই এলাকাগুলিকে ‘বিপজ্জনক’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সামনেই দীপাবলি তাই এই দূষণের মাত্রা আরও ছাড়িয়ে যেতে পারে আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞরা।
সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৭টায় দিল্লির গড় বায়ু গুণমান সূচক গিয়ে ঠেকে ৩৩১ এ। গত সোমবারই মরশুমে প্রথমবার রাজধানীর বায়ুর গুণগত মান ‘অত্যন্ত খারাপ’ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সোমবার সকাল ৯টায় গুণমান সূচক ছিল ৩১২। বিকেল ৪টে নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২৪-এ। এরপর মঙ্গলবার সকালে সেই মাত্রা আরও বেড়ে ৩৩১-এ পৌঁছয়।
উল্লেখ্য, শীতকালীন দূষণ মোকাবিলায় দিল্লির বাইরে থেকে আসা বিএস-৬ মানদণ্ডের অধীনে নয় এমন সব যানবাহনগুলিকে রাজধানীতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দিল্লি প্রশাসন। তবে বৈদ্যুতিক ও সিএনজিচালিত গাড়ির পাশাপাশি অ্যাম্বুল্যান্স এবং দমকলের মতো জরুরি পরিষেবার যানবাহনকে এই বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এদিকে, ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দিল্লির অনুমোদিত পার্কিং লটগুলিতে পার্কিং ফি দ্বিগুণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলিতে ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তবুও বায়ুর ক্রমবর্ধমান খারপ পরিস্থিতি ভাবাচ্ছে আবহাওয়াবিদদের। সামনে দীপাবলি আর এই উৎসবের আনন্দের কথা মাথায় রেখেই দিল্লিতে বাজি পোড়ানোর অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে উৎসবের আগে স্বস্তির হাওয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে এই অনুমতির পর বাস্তবে দূষণের পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, পরিবেশের উপর তার কতটা প্রভাব পড়ে এবং প্রশাসন কীভাবে গোটা পরিস্থিতি সামাল দেয়, এখন সেদিকেই নজর সবার।