


গুয়াহাটি, ৩ নভেম্বর: একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে একের পর এক বিপুল অঙ্কের টাকা জমা পড়ছে, আবার জমা হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রথমে বিষয়টি সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেন বলে মনে হলেও, তদন্তে ক্রমশ সামনে আসতে শুরু করে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা একটি বড়সড় আর্থিক প্রতারণা চক্রের সম্ভাব্য যোগসূত্র। সেই সূত্র ধরেই অসম পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের জালে ধরা পড়ল ছয় জন। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয়, এই চক্রের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার অপারেটিভদের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা-ও সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা।
এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোনিতপুর পুলিশের দায়ের করা অভিযোগের পর এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে গুয়াহাটির বাসিন্দা মারজিনা বেগমের নামে থাকা একটি রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাং অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। ২০২৬ সালের ২২ জুন থেকে ৫ অগস্টের মধ্যে ওই অ্যাকাউন্টে একাধিক দফায় লক্ষ লক্ষ টাকা জমা পড়ে। অভিযোগ, টাকা জমা হওয়ার পরপরই তা তুলে নেওয়া হত। এই লেনদেনের ধরন থেকেই অ্যাকাউন্টটি প্রতারণার টাকা সরানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে সন্দেহ হয় পুলিশের। পাশাপাশি সেই সূত্র ধরে তদন্তকারীরা পৌঁছন গুয়াহাটির বামুনিমইদানের বাসিন্দা মফিজুল হক (২২) এবং হিমাংশু দাসের (১৯) কাছে। গত ২৮ অক্টোবর এসটিএফ এর অভিযানে মারজিনা বেগম-সহ এই তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি বেশ কিছু মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, অন্যান্য ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ব্যাঙ্কের পাসবুক, এটিএম কার্ড বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, অসমের বাইরে থেকে কোনো এক মূল অপারেটর এই গোটা নেটওয়ার্কটি পরিচালনা করত। এমনকি পাকিস্তানি কোনো সংগঠনও এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত আছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাছাড়াও এই এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে অন্য কোনও দেশবিরোধী শক্তির ভূমিকা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে এসটিএফ। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।