


ওয়াশিংটন: ‘ডেনমার্ক আসলে অকৃতজ্ঞ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গ্রিনল্যান্ড ফেরত দিয়ে বোকামি করেছিল আমেরিকা’। দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মঞ্চ থেকে ডেনমার্ককে এভাবেই আক্রমণ শানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছলে-বলে-কৌশলে ডেনমার্ক দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দখলের হুমকি থেকে ডেনমার্ক সহ একাধিক দেশের উপর বাড়তি শুল্ক চাপানো। কোনও চেষ্টা বাকি রাখছেন না তিনি। এনিয়ে আমেরিকা ও ডেনমার্কের বাগযুদ্ধ লেগেই রয়েছে। এরইমাঝে বুধবার দাভোসে এমনই মন্তব্য করলেন ট্রাম্প।
বক্তব্যের শুরু থেকেই তাঁর আক্রমণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় মিলেছে। শুরুতে ট্রাম্প বলে ওঠেন— ‘সো মেনি ফ্রেন্ডস অ্যান্ড আ ফিউ এনিমিজ।’ এরপর গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে একের পর এক তোপ দাগতে থাকেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমেরিকার সঙ্গে অবিচার করছে ন্যাটো। দুর্লভ খনিজ দখলের জন্য নয়, কৌশলগত কারণেই গ্রিনল্যান্ড দরকার। আপনারা যদি না বলেন, তাহলে কিন্তু পুরো বিষয়টি আমার মনে থাকবে। জানি শক্তি প্রয়োগ না করলে আমরা কিছুই পাব না। তখন কিন্তু আমরা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠব। কিন্তু আমরা তা করব না। গ্রিনল্যান্ড দখল করতে সামরিক শক্তি ব্যবহার করব না। গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের মানুষের প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে পারে একমাত্র আমেরিকাই।’ তবে, রাতে সুর নরম করে সমাজমাধ্যমে অবশ্য ট্রাম্প লেখেন, ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটের সঙ্গে তাঁর বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। আর তাই ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যে বাড়তি শুল্ক গ্রিনল্যান্ডের উপর চাপানোর কথা বলেছিলেন, তা থেকে তিনি সরে আসছেন।
এরইমাঝে ট্রাম্পের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ডেনমার্কের এমপি অ্যান্ডার্স ভিস্টিসেন। তিনি বলেন, ‘ডিয়ার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ভালো করে শুনে রাখুন। ৮০০ বছর ধরে ডেনমার্কের অংশ গ্রিনল্যান্ড। গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। আপনি সহজে বুঝতে পারবেন এমন শব্দেই বলছি— মিস্টার প্রেসিডেন্ট... আপনি চুলোয় যান’। ছবি: এএফপি