


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কলকাতা হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, আমডাঙায় জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শেষ করতে হবে দ্রুত। তার জন্য প্রয়োজনে ভিন জেলা থেকে পুলিস বাহিনী এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে হাইকোর্টের এই আদেশের পর ১ মার্চ থেকে কাজ শুরু হয় জোরকদমে। কয়েকদিন সব ঠিকঠাক চলার পর ১৩ মার্চ থেকে কাজে বাধা দিতে শুরু করেন সংশ্লিষ্ট জমি মালিকরা। তারপরও কাজ চলছিল। মঙ্গলবার দেখা গেল, ২০১৩ সালের জমি অধিগ্রহণ আইন মোতাবেক ক্ষতিপূরণ দাবি করে জমি মালিকরা ফের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। উচ্চ আদালত যেভাবে পুলিসকে সক্রিয় হতে বলেছিল, এদিন তাদের সেরকম কোনও ভূমিকা দেখা যায়নি বলে দাবি স্থানীয় অনেকের। তবে রাজ্য পুলিসের এক কর্তা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সবরকম পদক্ষেপ করা হয়েছে। এদিন পুলিস এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জমি মালিকদের তুমুল বচসা হয়। শেষ পর্যন্ত কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে জমি মালিকরা কোর্টের নির্দেশ ‘অমান্য’ করছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই দাবি সঠিক নয় বলে পাল্টা দাবি বিক্ষোভকারীদের। পুলিস অবশ্য এর পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি থাকার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না।
কলকাতার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। উত্তরবঙ্গ থেকে নদীয়া পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণের কাজ প্রায় শেষ। সেই অংশ দিয়ে এখন যানবাহনের যাতায়াত অনেক মসৃণ হয়েছে। কিন্তু উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ঢুকেই গাড়ির গতি কমে যাচ্ছে। এর কারণ, গত প্রায় এক যুগ ধরে আমডাঙা ব্লকে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ থমকে রয়েছে। আমডাঙার সন্তোষপুর থেকে রাজবেড়িয়া পর্যন্ত ২১টি মৌজা। দূরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার। এই অংশে সড়ক সম্প্রসারণের যে জমি চিহ্নিত হয়েছে, তার মালিক প্রায় ১২ হাজার জন বলে সূত্রের দাবি। রাস্তার দু’দিকেই জমি চিহ্নিত করা হয়েছে অধিগ্রহণের জন্য। কিন্তু আজও জমির দখল পায়নি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবিতে আগেও একাধিকবার আন্দোলন করেছেন জমি মালিকরা। এদিন টালিখোলা, উড়ালা, মহাদেবপুর এলাকায় বিক্ষোভ হয়। জমি মালিক বাসন্তী ঘোষের দাবি, ‘সরকার আমাদের কোনও ক্ষতিপূরণ দেয়নি। যতদিন না ক্ষতিপূরণ পাব, কোনও কাজ হবে না।’ সৈয়দ আহমেদ নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘২০১৩ সালের জমি অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সরকারকে। তা করা হচ্ছে না। হাইকোর্টে ভুল রিপোর্ট জমা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।’ এ বিষয়ে হাইকোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল অফিসার তথা আইনজীবী অনিন্দ্য লাহিড়ি জানিয়েছেন, ওই অংশের জন্য ৭০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এটা জনগণের রাস্তা। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের জন্য এভাবে কাজ বন্ধ থাকতে পারে না। বিষয়টি নিয়ে আমি পুলিস সুপারের সঙ্গে কথা বলব। এনিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে জেলাশাসক শরদকুমার দ্বিবেদীকে ফোন করা হলেও যোগাযোগ করা যায়নি। নিজস্ব চিত্র