


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কয়েকবছর ধরেই বাজারে জনপ্রিয় হয়েছে ‘টার্কিজ’ গয়না। তুরস্কের তৈরি ওই গয়না দেখতে এখানকার হাতে তৈরি নকশার চেয়ে অনেকটাই আলাদা। চাহিদা আছে বুঝে কলকাতাসহ রাজ্যের অনেক দোকানই তাদের সম্ভারে রাখত এই গয়না। সংগঠনগতভাবে এবার সিদ্ধান্ত হয়েছে, তুরস্কের ওই গয়না আর বিক্রি করবে না সোনার দোকানগুলি।
ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধে ভারতের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় আজারবাইজান এবং তুরস্ক। যুদ্ধে তারা সরাসরি সাহায্য করে সন্ত্রাসবাদী দেশ পাকিস্তানকে। ওই দুই দেশের এই মানসিকতাকে ঘৃণার চোখে দেখছেন ভারতীয়রা। ওই দেশগুলিতে বেড়াতে যাওয়া বয়কট করা থেকে শুরু করে পারস্পরিক বাণিজ্য বন্ধ করার ডাক দেওয়া হয়েছে গোটা দেশজুড়ে। সেই তালিকায় এবার নাম লেখালো গয়নাও।
এরাজ্যের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের অন্যতম সংগঠন স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটির কার্যনির্বাহী সভাপতি সমর দে বলেন, যেহেতু বাঙালি কারিগরদের নকশার থেকে তুরস্কের গয়না একেবারে আলাদা, তাই ক্রেতাদের এক শ্রেণির মধ্যে এর চাহিদা ছিল যথেষ্ট। কিন্তু তুরস্ক যেভাবে ভারতের সঙ্গে বেইমানি করেছে, তাতে আমরা সংগঠনগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ওই গয়না আমরা আর আমদানি করব না। এই ঘোষণায় বিপুল সাড়া মিলেছে আমাদের সদস্যদের মধ্যে থেকে। অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, তুরস্কের গয়নার যে স্টক থেকে গিয়েছে, তার কী হবে? সমর দে’র জবাব, আমরা সিদ্বান্ত নিয়েছি, তা এখন ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সম্পত্তি। তাই তা বিক্রি করা হবে। কিন্তু নতুন করে কোনও পণ্য আর রাখা হবে না শোরুমগুলিতে।
সমরবাবু জানান, মহারাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই তুরস্কের গয়নার বরাত বাতিল হয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, তুরস্কের মতো আজারবাইজানের গয়না এখানে ততটা জনপ্রিয় নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা সেদেশের সঙ্গেও কোনোরকম বাণিজ্যিক লেনদেনে জড়াব না। অন্যদিকে, ভারতীয় গয়নাও তুরস্ক বা আজারবাইজানে জনপ্রিয়। এখন থেকে সেই গয়না রপ্তানি হয়। সেই রপ্তানিতেও আর অংশ নেবেন না ব্যবসায়ীরা, সাফ কথা সমরবাবুর।