


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বসিরহাট ও বনগাঁ মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় নিকাশির দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হল উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর ও বাদুড়িয়া এলাকার উপর দিয়ে যাওয়া ইছামতী নদী, পদ্মা খাল ও যমুনা খাল সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যেই কাজের টেন্ডার করে ‘ওয়ার্ক অর্ডার’ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই কাজ শুরু হবে। এই কাজ করতে গিয়ে ‘জিরো কস্ট’ মডেলকেই হাতিয়ার করছে প্রশাসন। অর্থাৎ, যে বেসরকারি সংস্থা নদী ও খালে পলি তোলার কাজ করবে, তারাই সেই মাটি বিক্রি করবে। এর জন্য তারা জেলা প্রশাসনকে দেবে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, একদিকে যেমন মিটবে জল নিকাশির সমস্যা, সেই সঙ্গে মোটা টাকা আয় করবে জেলা প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফি-বছর বর্ষায় ইছামতী, যমুনা ও পদ্মা খালের জল উপচে প্লাবিত হয় বসিরহাট ও বনগাঁর বিস্তীর্ণ অঞ্চল। চলতি বর্ষায়ও তার কোনও ব্যতিক্রম দেখা যায়নি। বছর বছর এই দুর্ভোগ পোহাতে হয় কারণ, নদী ও খালগুলি বর্তমানে কার্যত মজে গিয়েছে। ভরে গিয়েছে কচুরিপানাতে। অনেক জায়গায় এমন অবস্থা যে খাল ও নদী বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার প্রশাসনের কাছে দরবার করেছেন। অবশেষে যমুনা খাল, পদ্মা খাল এবং ইছামতী নদী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বরূপনগরের দেয়াড়া ব্রিজ থেকে চারঘাট ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার যমুনা খাল, বাদুড়িয়াতে পোতাপার থেকে রানিডাঙা পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার পদ্মা খালের সংস্কার হবে। এছাড়া, স্বরূপনগরের রামচন্দ্রপুর থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ইছামতীর প্রায় ৪ কিলোমিটার সংস্কার হবে। সম্পূর্ণ কাজ তত্ত্বাবধানে রয়েছে জেলা পরিষদ। ‘জিরো কস্ট’ মডেল মাথায় রেখেই সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছে সেচদপ্তর। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শরদকুমার দ্বিবেদী বলেন, ‘টানা বর্ষার জন্য কাজ শুরু করতে একটু সমস্যা হচ্ছে। আশা করা যায়, কয়েকদিনের মধ্যেই কাজ চালু হয়ে যাবে। খাল ও নদীতে জমে থাকা মাটি বিক্রি করবে বরাত পাওয়া ঠিকাদার সংস্থা। তা থেকে জেলার প্রায় ১০০ কোটি টাকা আয় হবে।’ জেলা সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন, ‘মানুষের সমস্যা সমাধানে বদ্ধপরিকর আমাদের সরকার। নদী ও খাল সংস্কার থেকে আসা টাকায় স্থানীয়স্তরে উন্নয়নের কাজ করবে জেলা পরিষদ।’