


সুকান্ত বসু, কলকাতা: সিলেট থেকে মোষের গাড়িতে করে উত্তর কলকাতার দুর্গাচরণ ব্যানার্জি স্ট্রিটে আনা হয়েছিল অষ্টভূজা মহিষমর্দিনীর মূর্তি। ঘটনাটি ২৫০ বছর আগের। তারপর থেকে এখনও বন্দ্যোপাধ্যায়দের মন্দিরে পুজো হচ্ছে দুর্গার। মূর্তিটি সেন আমলের। কষ্টিপাথরে তৈরি। ‘সঙ্কটনাশিনী’ হিসেবে ফি বছর অগ্রহায়ণ মাসের শেষ শুক্রবার জাঁকজমক সহকারে পুজো হয়।
পরিবারের সদস্য সৌমক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বাংলাদেশের সিলেটের এক পরিত্যক্ত জলাশয়ে কাদার তলায় চাপা পড়েছিল মূর্তিটি। তাঁদের এক বংশধর স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে উদ্ধার করেন। এবং কলকাতায় পাঠান। তারপর থেকে দেবীর পুজো বাড়ির মন্দিরে হয়ে চলেছে। দেড়শো কেজির মতো ওজন কষ্টিপাথরের মূর্তিটির। যাতে কোনও ক্ষতি না হয় তার জন্য মোষের গাড়িতে চাপিয়ে বিশেষ কাঠের বাক্সতে ভরে পাঠানো হয়েছিল কলকাতায়। অনেকদিন লেগেছিল নিয়ে আসতে। মূর্তির উচ্চতা প্রায় চার ফুট। ডান পা মহিষের পিঠে। মাথায় জটা। আট হাতে আট অস্ত্র। বজ্র ও ঘণ্টা নেই। মহিষের কাটা গলা থেকে বেরিয়েছে মহিষাসুর। সিংহ মহিষাসুরের পা কামড়ে ধরে রেখেছে। মূর্তির দু’পাশে ঢাল ও খড়্গ হাতে দাঁড়িয়ে নারী ও পুরুষের মূর্তি। বন্দ্যোপাধ্যায়রা জানান, পুজো সম্পন্ন হতে সকাল থেকে দুপুর। ভোগ নিবেদন করতে বেলা গড়িয়ে যায়। রাতে নতুন করে ভোগ নিবেদন হয় না। ফলে বাড়ির লোকজনও ওইদিন রাতে খাবার মুখে তোলেন না। ষোড়শোপচারে পুজো হয়। বিশেষ ভোগ দেওয়া হয় ছোলা ও আখের গুড়। অন্য একটি থালায় ছোলা ও কাঁচা আদা। এছাড়া থাকে খিচুড়ি, বেসন দিয়ে পাঁচ রকম ভাজা, আলুর দম, ছ্যাঁচড়া, চাটনি, পায়েস, দশ রকমের মিষ্টি। একাধিক মরশুমি ফল। বলি হয় না। পুজোয় নানা ধরনের শয্যা দুর্গার কাছে অর্পণ করা হয়। সন্ধ্যায় বিশেষ আরতি। পুজো শেষে দেবীর কাছে নিবেদন করা ভোগ বিতরণ হয় এলাকার মানুষের মধ্যে। মূর্তির নীচের অংশ মন্দিরের ভিতর মেঝেতে গাঁথা। সেবায়েত সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ আসেন দেবী দর্শন করতে। আশ্বিন‑কার্তিক কিংবা চৈত্র মাসে দুর্গাপুজোর সময় আমাদের বাড়ির মন্দিরে বিশেষ পুজো হয় না। আমাদের দুর্গার পুজো হয় অগ্রহায়ণ মাসে।’