


নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ডিভিসির ছাড়া জলে ফের ডুবল খানাকুলের নিচু এলাকা। খানাকুল-২ ব্লকের মারোখানা ও জগৎপুর পঞ্চায়েত এলাকার একাংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। কিছু ঘর বাড়িতেও জল ঢুকে যায়। তারসঙ্গে রাজ্য সড়কের উপরেও জল দাঁড়িয়ে পড়ে। তার জেরে ফের ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন বাসিন্দারা। জগদীশতলা এলাকায় মায়াপুর-গড়েরঘাট রাজ্য সড়ক অপেক্ষাকৃত নিচু। নদীতে জল বাড়লেই রাস্তার ওই অংশ প্লাবিত হয়। ফলে গত কয়েকদিন ধরে সেখানে ফের একই অবস্থা হয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, জমা জলের পরিমাণ বাড়ছে। তবে ওই জমা জলের উপর দিয়েই বাস চলাচল করছে। খানাকুল-২ বিডিও মহম্মদ জাকারিয়া বলেন, ডিভিসির জল ছাড়া অব্যাহত রয়েছে। তার জেরে নিচু এলাকাগুলিতে জল ঢুকেছে। পরিস্থিতি নজরে রেখে প্রত্যেককেই সতর্ক করা হয়েছে।
সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রূপনারায়ণ নদ গত দু’দিন ধরে বিপদসীমার কাছাকাছি বইছে। মঙ্গলবার রূপনারায়ণ নদের জলস্তর ছিল ৬.৬১ মিটার। দামোদর ও মুণ্ডেশ্বরী নদীর জলস্তর এখনও বিপদসীমায় না পৌঁছলেও সেখানে জল বাড়ছে। এরই মধ্যে এদিন ডিভিসি দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে ৬৬ হাজার ২০০ কিউসেক হারে জল ছেড়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, ডিভিসি ক্রমাগত জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়াচ্ছে। তার জেরে এলাকার জল নামছে না।
খানাকুল-২ ব্লকের মাড়োখানা পঞ্চায়েত এলাকার একাংশ রূপনারায়ণের জলে প্লাবিত হয়েছে। পানশিউলি বাজারে জল দাঁড়িয়ে পড়েছে। তারফলে ব্যাঘাত ঘটছে বিক্রিবাটায়। মাড়োখানা থেকে পানশিউলি পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার রাস্তায় হাঁটু সমান জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাই ওই রাস্তায় খানাকুল-২ ব্লক প্রশাসন বিনামূল্যে ট্রাক্টর পরিষেবা দিচ্ছে। এদিনও ওই ট্রাক্টরে চেপে বহু বাসিন্দা পারাপার করেছেন। ওই এলাকায় অনেকের বাড়িতে জল ঢুকে গিয়েছে। তাঁরা চরম বিপাকে পড়েছেন। সমস্যায় পড়েছে স্কুলগুলিও।
মারোখানা হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবাশিস বেজ বলেন, স্কুল চত্বরে জল জমে গিয়েছে। স্কুলে ঢোকার রাস্তাও জল মগ্ন। ট্রাক্টরে চেপে শিক্ষক ও পড়ুয়ারা স্কুলে গিয়েছে। এদিন শেষ পরীক্ষা কোনওভাবে হয়েছে। আজ, বুধবারও স্কুল খোলা থাকবে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা শেখ সানোয়ার বলেন, এবছর বেশ কয়েকবার এলাকা প্লাবিত হল। তারফলে বাসিন্দারা খুবই সমস্যায় পড়ছেন। খেয়া পারাপার করতে দীর্ঘ সময় লাগছে। রূপনারায়ণে জোয়ার হচ্ছে বলে বাঁধ উপচে জল গ্রামে ঢুকে পড়ছে। বাসিন্দারা বলেন, বাড়িতে ও রাস্তায় জল ঢুকলে তা কিছুদিন থেকে যাচ্ছে। ডিভিসি জল ছেড়ে রাখায় রাস্তার জল নামতে অনেক সময় লাগছে। তাই ডিভিসি জল ছাড়া না কমালে দুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে। -নিজস্ব চিত্র