


ইস্ট বেঙ্গল- ০ : কেরল ব্লাস্টার্স- ২
(গিমিনেজ-পেনাল্টি, নোয়া)
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হার এখন ইস্ট বেঙ্গল সমর্থকদের গা সওয়া। সুপার কাপেও অন্যথা হল না। কেরল ব্লাস্টার্সের কাছে ০-২ গোলে হেরে প্রথম ম্যাচেই বিদায় গতবারের চ্যাম্পিয়নদের। সাউল, দিয়ামানতাকোসদের খেলায় তাগিদ অদৃশ্য। কয়েকদিন আগেই কোচের সঙ্গে ঝামেলায় দল ছেড়েছেন ক্লেটন সিলভা। দলের টিম স্পিরিটের দফারফা। জিতলে কোয়ার্টার-ফাইনালে মোহন বাগানের মুখোমুখি হতো লাল-হলুদ ব্রিগেড। খেলার যা ছিরি তাতে ডার্বি না হওয়ায় বেঁচে গিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সুপার কাপের বোধনেই বিসর্জন। আইএসএলে ন’নম্বরে থাকা দলের কাছে এর চেয়ে বেশি প্রত্যাশা করাও বৃথা। দলের এই পারফরম্যান্সে চরম বিরক্ত শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। তাঁর মন্তব্য, ‘পরের মরশুমে খোলনলচে না পাল্টালে চরম দুর্দশা অপেক্ষা করছে।’
নক-আউট ম্যাচে ৩-৫-২ ফর্মেশনে দল সাজিয়েছিলেন অস্কার। প্রায় সারা মরশুম চার ডিফেন্ডারে খেলার পরেও হঠাৎ করে কম্বিনেশন বদল কেন? জবাব একমাত্র অস্কারই দিতে পারবেন। মোদ্দা কথা, নোয়া-গিমিনেজদের বিরুদ্ধে ঠকঠকিয়ে কাঁপল ইস্ট বেঙ্গল রক্ষণ। শুরুতেই নোয়ার মাইনাস থেকে ফাঁকা গোলে বল ঠেলতে ব্যর্থ গিমিনেজ। অন্তত দুটি ওপেন সিটার মিস করলেন তিনি। অন্যদিকে অগোছাল, ম্যাড়ম্যাড়ে অস্কার ব্রিগেড। মেসি বৌলি, দিয়ামানতাকোস, সেলিসদের দলে রাখা মানে ভিড় বাড়ানো। খেলা ভুলেছেন বিষ্ণু। বড় অফার পেয়ে হয়তো মাথা ঘুরেছে তাঁর। এমন চললে মুখ থুবড়ে পড়তে হবে। এরই মধ্যে ৩৮ মিনিটে লিড পায় কেরল। বক্সের মধ্যে আনোয়ারকে মাটি ধরিয়ে পেনাল্টি আদায় করলেন নোয়া। জাতীয় দলের মতোই আনোয়ারের হাল বড় করুণ। ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তারকা বানানোর চেষ্টা। যাই হোক, গিমিনেজের স্পট কিক প্রথমে রুখে দেন গিল। কিন্তু কিক নেওয়ার সময় সামান্য এগিয়ে ছিলেন ইস্ট বেঙ্গল গোলরক্ষক। তাই ফিরতি পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। লাইফলাইন পেয়ে আর ভুল করেননি গিমিনেজ (১-০)। বিরতির আগে গোল শোধের সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল ইস্ট বেঙ্গলের সামনে। বিষ্ণুর শট পোস্টে প্রতিহত হয়ে ছিটকে এলে ফাঁকা গোলে বল ঠেলতে পারেননি মেসি বৌলি।
আক্রমণে ঝাঁঝ বাড়াতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জোড়া পরিবর্তন আনেন অস্কার। নিশু ও সাউলকে ব্যবহার করলেন তিনি। তবে লাভের লাভ শূন্য। উল্টে প্রায় ২৫ গজের দূরপাল্লার শটে জাল কাঁপালেন নোয়া (২-০)। মহেশ, হেক্টরদের মতো গিলও তখন স্রেফ দর্শক।
ইস্ট বেঙ্গল: গিল, রাকিপ (নিশু), আনোয়ার, হেক্টর, লালচুংনুঙ্গা (শৌভিক), জিকসন (সাউল), বিষ্ণু, মহেশ, সেলিস (নন্দ), মেসি বৌলি (ডেভিড) ও দিয়ামানতাকোস।